Home Home Page Rank NTV ONLINE ETV ONLINE BANGLA  VISION ONLINE CHANEL I ONLINE EKATTOR TV ONLINE
২০-০৪-২০১৪ রবিবার

 ভিজিট করুন মোবাইল ভার্সন:  m.dainiksylhet.com 

 

 
 
 
মোবাইল ভার্সনে যারা আছেন
Free Global Counter
 
এই জনপদ
 
 
 
 
 

জামেয়া মোহাম্মদিয়া আরাবিয়া বিশ্বনাথের প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান ফারুক রাজনগরী এক সংক্ষিপ্ত সফরে যুক্তরাজ্য গেছেন। সেখানে তিনি প্রবাসীদের সাথে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন। বিশেষ করে জামেয়া মোহাম্মদিয়া আরাবিয়া বিশ্বনাথের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরও বেশি করে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে ধর্মপ্রাণ  প্রবাসী বিশ্বনাথবাসীসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। যাবার সময় তিনি সৌদিআরবে পবিত্র উমরাহ পালন করবেন এবং সৌদি প্রবাসীদের সাথেও মতবিনিময় করবেন। 
এদিকে প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান ফারুক রাজনগরীর যুক্তরাজ্য ও পবিত্র উমরাহ পালনে সৌদিআরব গমন উপলক্ষে এক বিদায় সংবর্ধনা গতকাল জামেয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। জামেয়ার মুহাদ্দিস শায়খুল হাদীস মাওলানা শাহ রশিদ আহমদ মিয়াজানীর সভাপতিত্বে ও নির্বাহী মুহতামিম মাওলানা নূরুল হকের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদীস আল্লামা নূরুল ইসলাম শায়খে মইজপুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা খলিলুর রহমান মাসুক, জামেয়ার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা ফয়জুর রহমান, মুহাদ্দিস মাওলানা আনোয়ার বেগ, শিক্ষা সচিব মাওলানা নিজাম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে জামেয়ার আসাতিযায়ে কেরাম, এলাকার মুরব্বীয়ান ও ছাত্ররা অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য লন্ডনে অবস্থানকালে মাওলানা ফারুককে ০৭৯১০১৬১৪৫৫ মোবাইল নাম্বারে পাওয়া যাবে।
               

 
 
 
 
 
 
 

মুহাম্মদ আব্দুল বাছির সরদার:
বার বার সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ প্রাণহানীর ঘটনায় এবার স্থানীয় এলাকাবাসি ফুঁসে ওঠতে শুরু করেছে। রবিবার সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেনের কাছে উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ধল গ্রামের কয়েকশত লোকের স্বাক্ষরিত এক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ধল রোডে অদক্ষ চালক, মেয়াদ উত্তীর্ণ টেম্পেু ও সিএনজি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার জনসাধারণ যাতায়াত করে আসছে। গত ১৮ এপ্রিল অদক্ষ চালকের কারণে অকালে ঝরে গেছে দিব্যশাহী নামে ছয় বছরের একটি শিশুর প্রাণ, বিগত বছরেও এক দুর্ঘটনায় একটি শিশু মারা যায়। স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, দিরাই থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার রাস্তার ভাড়া ২০ টাকা নেয়া হলেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদাসীন। এছাড়া গাড়ীগুলোতে হর্ণ, লাইট, ব্রেক না থাকা এবং চালকদের কোন লাইসেন্স নেই বলেও উল্লেখ করেন। তারা উক্ত রোডে অভিজ্ঞ চালক ও উপযুক্ত গাড়ী চলাচলের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান, আর এতে করে এ রোডের দুর্ঘটনাগুলো এড়াতে সক্ষম হবে বলেও মনে করেন তারা। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন হাফিজ মোঃ মাজহারুল ইসলাম, রাফসান জানী আজাদ, জাবিরুল ইসলাম, জাবেদ রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, বদরুল আলম, জুবায়ের আলম, হৃদয় মিয়া, আদিল খাঁ, রিজু, মঞ্জু মিয়া, তানভীর খান তুহিন, শামীম মিয়া, অনাবিল, জয়, সৌমিক, অমিত হাসান ও সাবিতুর মিয়া প্রমুখ।
               

 
 
 
 
 
 
 

সিলেট,১৯ এপ্রিল:
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী বলেছেন, জাতির বিবেক সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। এদের মাধ্যমেই সমাজের সঠিক চিত্র ফুটে উঠে। তাদের উপর এ ধরনের হামলা খুবই নিন্দনীয়, এটা কোন অবস্থায় বরদাশত করা হবে না। দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ দৈনিক সিলেটের ডাকের ডেপুটি চিফ রিপোর্টার অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ তাজউদ্দিনের উপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে। সন্ত্রাসীরা যে দলেরই হোক না কেন যে কোন মূল্যে দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। মতবিনিময় সভায় দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের সপ্তাহব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচী এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীকে অবহিত করা হয়।
 সাংবাদিকদের বক্তব্য ধৈর্য্য সহকারে শুনেন এবং তিনি মামলার খোঁজ খবর নেন ও তাৎক্ষণিক কোতোয়ালী থানার ওসিকে আসামীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এছাড়াও এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাব-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আফতাব উদ্দিন, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম আহমদ আলী, বর্তমান সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুসিক, সাধারণ সম্পাদক আজমল খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি চঞ্চল মাহমুদ ফুলর,  প্রতিষ্ঠাতা সহ সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ,  প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোঃ মঈন উদ্দিন, ফয়সল আমীন, গোলাম মর্তুজা বাচ্চু, বর্তমান সহ-সভাপতি খালেদ আহমদ, সহ সাধারণ সম্পাদক শাহ সোহেল আহমদ, ক্রীড়া সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শফিক আহমদ শফি, প্রেসক্লাব সদস্য, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোঃ ইমাদ উদ্দিন নাসিরি, এনএইচ শিপু, শিপন আহমদ, আব্দুল খালিক। সপ্তাহব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গতকাল এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য যে, আগামী ২৪ এপ্রিল দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনসাধারণকে নিয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচী পালন করা হবে।
               

 
 
 
 
 
 
 

কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কেক কাটার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ কৃষকলীগের ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সুনামগঞ্জ জেলা কৃষকলীগের উদ্যোগে শহরের রমিজ বিপণীস্থ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে কেক কেটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভ সূচনা করেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এডভোকেট নান্টু রায়। পরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা কৃষকলীগের সভাপতি সুবীর তালুকদার বাপ্টুর সভাপতিত্বে ও কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং সাধারন সম্পাদক করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুলের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এডভোকেট নান্টু রায় । সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এডভোকেট হায়াদার চৌধুরী লিটন,এডভোটেক ফজলুল করিম,জেলা কৃষকলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা এডভোকেট সবিতা চক্রবর্তী,জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মোঃ ফজলুল হক,জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি রমা দাস,শংকর দাস,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রনজিৎ চৌধুরী রাজন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম,,দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলা কৃষকলেিগর সভাপতি মোঃ ফয়জুর রহমান,তহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন,সম্প্রতি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে বসে দেশের স্বাধীনতা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবৈধ রাষ্ট্রপতি বলে নুতন করে মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ সরোওয়ারর্দী উদ্দ্যানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনেই স্বাধীনতার ঘোষনা ছিল। কাজেই তারেক রহমানের নতুন করে মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই দিনে প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে বিএনপি ও তাদের দোসর স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত শিবিরের দেশব্যাপী সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্ছার হওয়ার আহবান জানান। আলোচনা শেষে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে একটি বর্ণ্যাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিন করে।
               

 
 
 
 
 
 
 

দরগাহে হযরত শাহজালাল (র:) মাজার এলাকা থেকে তাহমিনা নামে ৬ বছর বয়সী একটি মেয়ে শিশু উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিলেট কোতোয়ালী থানার এ এস আই শফিকুল আলম জানান, গত ১৫ এপ্রিল মাজার এলাকায় দায়িত্ব পালন কালে একটি শিশুকে ক্রন্দনরত দেখে তার কাছে যান তিনি। এ সময় সে শুধু তার নাম তাহমিনা এবং পিতার নাম ছলিম বলে জানায়। এর বেশি কিছু কথা বলতে পারেনি সে। পরে মাজারের মোতাওয়াল্লীর সহযোগিতায় মেয়েটিকে থানায় নিয়ে আসেন এ এস আই শফিকুল। এরপর নিজে বাদী হয়ে তিনি থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করেন। জিডি নং-১০১২, তারিখ ১৫/০৪/১৪ইং।
গত ৫ দিন শিশুটি সিলেট কোতোয়ালী থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে ছিল।  শনিবার আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে সিলেট নগরীর বাগবাড়ী সেইফ হোমে পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি
   
               

 
 
 
 
 
 
 

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ ছাতকের পল্লীতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকান্ডে বসতঘর, ধান, গবাদি পশু, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩০লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভষ্মিভূত হয়। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের গহরপুর গ্রামের মৃত হাজী আলকাছ আলীর পুত্র সৌদি আরব প্রবাসী আশক আলীর বাড়িতে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত প্রায় ১টার সময় বসতঘরের পেছনদিক থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটে। মুহুর্তের মধ্যে গোটা বসতঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশী লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা চালায়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসেরকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছার আগেই প্রায় ৬০হাত দীর্ঘ ও ২৫হাত প্রস্থ বসতঘরসহ মালামাল ভস্মিভূত হয়। অগ্নিকান্ডে ২শ’ ৫০টি পাতি হাঁস, ১০টি ভেড়া, শতাধিক মন ধান, নগদ ১লক্ষ টাকা, ৫ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, ১০টি সিলিং ফ্যান, ৩টি পাওয়ার পাম্পসহ ৩০লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভষ্মিভূত হয়েছে। প্রবাসীর ভাই রফিক আলী জানান, সৌদি প্রবাসী আশক আলীর পরিবারসহ ৬টি পৃথক কক্ষে ৬ভাইয়ের পরিবার বসবাস করে আসছে। অগ্নিকান্ডের সময় ৬ভাইয়ের পরিবারের লোকজন রক্ষা পেলেও কোন মালামাল তারা রক্ষা করতে পারেনি। খোলা আকাশের নীচে থেকে পরিবারের লোকজন আগুনের ধ্বংসযজ্ঞ দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিলনা। গতকাল শনিবার সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মুর্শেদ চৌধুরী, জাউয়া তদন্দ্রের ইনচার্জ এসআই শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রবাসীর বাড়িতে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে আইনাকান্দি গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আশিকুল ইসলাম আশিক আর্থিক সহায়তাসহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের লোকজনদের ব্যবহারের শাড়ি, লুঙ্গি ও শিশু পোশাক কিনে দেন।
               

 
 
 
 
 
 
 

সিলেট নূপুর সংগীতালয়ের উদ্যোগে গানে গানে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান  শুক্রবার বিকালে নগরীর কেওয়াপাড়াস্থ শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজে বিকালে অনুষ্ঠিত হয়। সংগীতালয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. দিলীপ কুমার দাশ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি জাতির শিক্ষাÑসংস্কৃতিÑভাষা না থাকলে তাকে যেমনি জাতি বলা যায় না, তেমনি বাংলা ভাষার সমৃদ্ধ ইতিহাস সংস্কৃতির অপরিহার্য হল বাংলা সন ও বর্ষগননা তাই এই বর্ষবরণ আমাদের সকলের অবশ্য পালনীয় উচিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আজিজুল মালিক চৌধুরী, সংগীতালয়ের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও ইমিগ্রেশন এডভাইজার রোটারিয়ান ড. আর কে ধর, জেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এ কে এম কামরুজ্জামান মাসুম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ডা. দিলীপ কুমার চন্দ, অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগীতালয়ের পরিচালক ও বেতার কণ্ঠশিল্পী তুহিন আহমেদ। সংগীতালয়ের সহ-পরিচালক টিভি অভিনেতা মহিউদ্দিন মাহমুদ টিপু ও শিক্ষার্থী জনি আক্তার পপির যৌথ পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগীতালয়ের সহ-সভাপতি রঞ্জন সিনহা, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট কামরুল হাসান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিল্পী কামরুন নেছা সায়মা, সাহিত্য প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক এম এ মুহিত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী দেবষী চৌধুরী দীপ। সহ সাংস্কৃতি সম্পাদক ইমন কান্তি দাস, নির্বাহী সদস্য জুবের আহমদ আনা, শিল্পী বীনা রানী রায়, সাজু আহমদ, বিপ্র দাস, লিটন দে, তৃষ্ণা ভট্টাচার্য, বৈশাখী রায় প্রমুখ। সর্বশেষে সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়। সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতালয়ের শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা।
               

 
 
 
 
 
 
 

সুধাংশু শেখর হালদার,মৌলভীবাজারঃ
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জুড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি মহানন্দ দে(৮২) বার্ধক্য জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে   ১৯ এপ্রিল ভোর ২.৩০ মিনিটের দিকে জুড়ী উপজেলাস্থিত তার নিজ বাড়ীতে ইহকাল ত্যাগ করে পরলোক গমন করেন। মৃত্যুকালে তিনি তার তিন ছেলে,  তিন মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পংকজ রায় মুন্না ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে জানান,মহানন্দ দে ছিলেন একজন সৎ, ধর্মপরায়ন এবং আদর্শবান পুরুষ। তাকে হারিয়ে আমরা শুকাহত। তিনি তার শুকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। 
               

 
 
 
 
 
 
 

দিরাই উপজেলা সংবাদদাতা :
দিরাইয়ে টেম্পোচাপায় প্রথম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ধল চানপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে শাহি (৬) গত শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় দিরাই ধল রোডে চালিত এক টেম্পোর সাথে ধাক্কা লেগে আহত হলে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহতাবস্থায় শাহি মিয়াকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে সেখানে পৌঁছানোর আগেই সে মারা যায়। এ ব্যাপারে দিরাই থানায় ২৭৯/৩০৪ (খ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
               

 
 
 
 
 
 
 

এয়ারলাইন্স ক্লাব অব সিলেটের ৭ম অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দানবীর ড. রাগীব আলী বলেছেন, হযরত শাহাজালাল ও হযরত শাহপরান (রঃ) সহ ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেট পর্যটনের জন্য একটি সম্ভাবনাময় স্থান। প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে এখনে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠছেনা। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এয়ার লাইন্স ক্লাব অব সিলেট বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে। এয়ার লাইন্স ক্লাব অব সিলেটের সদস্যরা সেবার মনমানসিকতা নিয়ে কাজ করলে এখনে দেশী-বিদেশী পর্যটকরা আসতে আগ্রহী হবে। সিলেট এম.এ.জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করলে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সহজেই বিদেশী পর্যটকরা সিলেট সফরে আসতে পারবে। সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে টি-২০ ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিলেটের পরিচিতি ও মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে আগামীতে সিলেটে পর্যটকদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার রাতে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে এয়ারলাইন্স ক্লাব অব সিলেটের ৭ম অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। দু’পর্বের অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব খন্দকার শিপার আহমদ। দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন নবনির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির। সেলিম আল রাজীর প্রাণবন্ত পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন খন্দকার আলী আব্বাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অভিষেক কমিটির আহ্বায়ক সঞ্জয় কুমার দাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রোজভিউ এর চেয়ারম্যান আহাদ উদ্দিন, ইতহাদ এয়ারওয়েজ এর বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার হানিফ জাকারিয়া, আল হারামাইন পারফিউমস গ্রুপ অব কোম্পানীর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহতাবুর রহনমান নাসির। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আটাব সিলেট জোনের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জলীল, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ.এফ.এম রুহুল আনাম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন, বিশিষ্ট টি-প্লান্টার আফজাল রশীদ চৌধুরী, বিমানের সিলেট এয়ারপোর্ট ম্যানেজার আবুল কলাম আজাদ প্রমুখ। ৭ম অভিষেক উপলক্ষে এয়ারলাইন্স ক্লাব অব সিলেট একটি মনোরম স্মরণিকা প্রকাশ করে। স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিবৃন্দ। আলোচনা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়। এতে ক্লাব সদস্যদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ সহ অতিথিবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন।
অভিষেক অনুষ্ঠানের প্রথব পর্বে প্রধান অতিথি দানবীর ড. রাগীব আলী নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। বিজ্ঞপ্তি
               

 
 
 
জনমত জরিপ

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮ দলীয় জোটের বিজয় জাতীয় রাজনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে কি?

 
হ্যাঁ না
 
 

ফলাফল দেখুন

 
 

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় তরমুজ খেয়ে অনিক (১১) ও স্মৃতি (৯) নামে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।  এছাড়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে একই পরিবাবের ৮জনসহ কমপক্ষে ৩০ জন। 
রোববার দুপুরে কুমারখালীর কালুয়াতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দুপুরে কালুয়া গ্রামের আসকর আলী কুমারখালী বাসষ্ট্যান্ড থেকে তরমুজ কিনে বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর ওই তরমুজ তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা এক সাথে খায়।
এর কিছুক্ষণ পরই তারা সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষনিকভাবে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে চিকিৎসধীন অবস্থায় আসকর আলীর কণ্যা স্মৃতি মারা যায়।
অসুস্থদের মধ্যে আসকর আলীর ছেলে অনিক (১১) এর অবস্থার অবনতি ঘটলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মৃত্যুবরণ করে।
এছাড়া অসুস্থ আরো কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. সালেক মাসুদ জানান, ধারণা করা হচ্ছে তরমুজে কোন কেমিক্যাল দেওয়ার ফলে তার বিষক্রিয়ার ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অন্য কোন খাদ্য গ্রহণের ফলে এমনটি ঘটেছে কিনা তা পরবর্তীতে জানা যাবে।
           

 
 
 
 

সিলেট, ২০ এপ্রিল:
ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল বলেছেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবাসীদের  গুরুত্বপূর্ণ অবদান আমাদেরকে কৃতজ্ঞ চিত্তে মনে রাখতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এতে প্রবাসীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। প্রবাসীদের মূল্যায়ন করলে ও সুষ্ঠু বিনোযোগের সুযোগ দিলে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি উত্তরোত্তর ঘটবে। রোববার ছাতক-দোয়ারা স্টুডেন্ট ফোরামরে উদ্যোগে ছাতক ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট   ইউকের সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সাইফুল আলম সুফিয়ানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হেটেলের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ছাতক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত লাহিন, ছাতক সমিতি সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ,সিলেটে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ রিপন,ছাতক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এডভোকেট ছায়াদুর রহমান ছায়াদ,সিলেটে মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক আবু সুফিয়ান। ছাতক দোয়ারা স্টুটেন্ড ফোরামের সিনিয়র সহ সভাপতি হারান চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাঈদ নোমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা  বক্তব্য রাাখেন ছাতক দোয়ারা স্টুটেন্ড ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর নোমান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক নজীর হোসেন লাহিন,বক্তব্য রাখেন ছাতক দোয়ারা স্টুডেন্ট ফোরামের সদস্য অনিক সেন, সানা উল্লাহ সাজু, স্বাধীন সামাজিক সংগঠনের সভাপতি রাশেদুজ্জামান রাশেদ। উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা কবির উদ্দিন লালা, আম্বরখানা বাজার কমিটির সদস্য শুয়েব আহমদ, আজিম মিয়া, ছাত্র নেতা  আব্দুল আলিম তুষার, আব্দুল মুকিত,জুবায়ের আহমদ, সামছু মিয়া, আবুল হোসেন, হাবিবুর রহমান পাবেল,তৌহিদুর রহমান এহিয়া,সুহেল আহমদ, নয়ন দাস, ফরহাদ মিয়া,মিজান আহমদ মিজান, জাহিদুল ইসলাম, সালেহ ফুহাদ, আফজাল হোসেন, জাহিদুর রহমান, জাহেদ হোসেন বিলাশ, জামিল আহমদ সৌরভ, নুরুজ্জামান পাপলু, কাওছার আল,কাওছার আহমদ শিপন প্রমুখ।
               

 
 
 

সিলেট, ২০ এপ্রিল:
শ্রম আইন বাস্তবায়ন, ৩০০ টাকা মজুরিসহ স্থানীয় বিভিন্ন দাবীতে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের শাখা সংগঠন চা শ্রমিক সংঘ সিলেট ভ্যালী কমিটির উদ্যোগে মিছিল ও সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০ টায় মালনিছড়া চা বাগানে পূজা মন্ডপ প্রাঙ্গন থেকে মিছিল সহকারে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েে এসে স্মারকলিপি প্রদান করে চা শ্রমিকরা। এ সময় জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরিত স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন চা শ্রমিক সিলেট ভ্যালী কমিটির নেত্রী রাধামনি মুন্ডা। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- চা শ্রমিক নেত্রী রাধা মনি মুন্ডা, বিমল গঞ্জু, জয়মাত্ম কুর্মি, সুনিল মুধী, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি নুরুল হুদা সালেহ।
 স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, চা শ্রমিক সহ এদেশের শ্রমিক, কৃষক, মেহনতী জনগন আজ এক নিধারুন পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। তীব্র শীতে শীতবস্ত্রের অভাবে, খাদ্য অভাবে, স্বাস্থ্যসম্মত প্রয়োজনীয় বাসস্থানের অভাবে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে হয় চা শ্রমিকদের। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা উপেক্ষা করে মালিকের মুনাফার জন্য খেটে মরছে এদেশের চা শ্রমিকরা। দুঃখ, কষ্টে জীবন জীবিকার প্রশ্নে চা শ্রমিকদের প্রেক্ষিতে মালিক পক্ষের কোন নজর নেই। চাল, ডাল, তেল, লবন সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। শীত মৌসুমেও শাক সব্জির মাত্রা অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি শ্রমিক জীবনকে দূর্বিসহ করে তুলেছে। বর্তমান বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে নুন্যতম মজুরী ৩০০ টাকা নির্ধারন করার দাবী থাকলেও মজুরী দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৬৯ টাকা। মালিক পক্ষ বিভিন্ন জনকে রেশন প্রদানের কথা বললেও মাত্র ৩ কেজি চাল ছাড়া আর কিছু শ্রমিকদেরকে দেওয়া হয় না। তাই শ্রমিকরা পূর্ণাঙ্গ রেশনের দাবী করেছেন। চাল, ডাল, তেল, লবন, মশলা সহ পূর্ণাঙ্গ রেশন থেকে চা শ্রমিকদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০১৩ এর বিধানের কথা উল্লেখ করে স্মারকলিতে আরো বলা হয়েছে, স্ববেতন ও সাপ্তাহিক ছূটি থেকে চা শ্রমিকদেরকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। এক মাসের বেতনের সম পরিমান দুটি উৎসব বোনাস ও একটি উৎসাহ বোনাসের নিয়ম কার্যকরী হচ্ছে না। তিন মাস কাজের পর চাকরী স্থায়ী করার অধিকার আজও বাস্তবায়ন হয় নি। চা শিল্প সহ ছোট ছোট বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকলেও সিলেটে একটি স্থায়ী শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠা হয় নি। স্মারকলিপিতে চা শ্রমিকদের উল্লেখিত দাবী নিয়ে মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে কোর্ট পয়েন্টে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এনডিএফ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ডা. এম এ করিম। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, সিলেট জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট কুমার চন্দ্র রায়, বিপ্লব মাদ্রাজী পাশী, হিলুয়াছড়া বাগান নেতা বিমল গঞ্জু, কালাগুল বাগান নেতা ভাসান ছত্রী, চা শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার রাজ দেও কৈরি,  লুবাছড়া বাগান নেতা অরুন বাউরি, তারাপুর নেতা সুনিল মুদী, গুলনি চা বাগান নেতা গঙ্গা কাকতী। সমাবেশ পরিচালনা করেন সুজন মিয়া।



 
 
 

ঢাকা, ২০ এপ্রিল: ধর্ষণের শিকার নারীর বয়স নির্ধারণের পরীক্ষায় পুরুষ চিকিৎসকদের অংশ না নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আদালতে হাজির হলে এ নির্দেশনার  কথা বলেছেন আদালত। এ-সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায়।

গত বছরের এপ্রিলে ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ: নারীর জন্য এ কেমন ব্যবস্থা!’ শিরোনামে জাতীয় একটি পত্রিকায় প্রতিবেদন ছাপা হয়। ওই প্রতিবেদনটি ১৬ এপ্রিল আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বি এম ইলিয়াস ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

প্রতিবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল দেন। গত বছরের জুনে দেশের সব সরকারি হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগে নারী চিকিৎসক, নার্স ও এমএলএসএস নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। এ আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতকে জানাতে বলা হয়। কিন্তু  কোনো জবাব না আসায় ২ এপ্রিল আদালত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তলবের আদেশ দেন।

আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক রবিবার আদালতে হাজির হন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দীন মোহাম্মদ নুরুল হক। অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

শুনানিতে রেজাউল করিম বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুসারে নারী চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তবে তা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

পরে দীন মোহাম্মদ নুরুল হকের উদ্দেশে আদালত বলেন, আপনারা তদারকি করবেন। নারীর বয়স নির্ধারণে কোনো পুরুষ (চিকিৎসক) যেন অংশ না নেন।
               

 
 
 

সিলেট, ২০ এপ্রিল:
নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে আহবায়ক করে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নব গঠিত এ আহবায়ক কমিটিতে স্থান হয়নি প্রবীণ বিএনপি নেতা ও সাবেক জেলা বিএনপি সভাপতি এড. ফজলুল হক আসপিয়ার। একইভাবে নানা চেষ্টা তদবির করেও কমিটিতে স্থান পাননি সংস্কারপন্থী নেতা নজির হোসেন।
রবিবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশে সিলেট বিভাগের বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন জীবন স্বাক্ষরিত এই কমিটির সকল সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়।
কমিটিতে একজন আহবায়ক আর বাকি সবাই আহবায়ক কমিটির সদস্য। কাউকে সদস্য সবিচ রাখা হয়নি। কমিটির আহবায়ক ও ১নং সদস্য কলিম উদ্দিন মিলনের যৌথ স্বাক্ষরে সকল কমিটি অনুমোদন দিতে হবে। ৪৫ দিনের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে সকল উপজেলা কমিটি গঠন করে জেলা বিএনপির কার্য নির্বাহী কমিটি গঠন করতে হবে।
৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির উল্লেখ্যযোগ্য সদস্যরা হলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী, ডা. রফিক চৌধুরী, দেওয়ান জয়নুল জাকেরিন, ওয়াকিফুর রহমান গিলমান, নাদির আহমদ, আবুল মনসুর শওকত, এটিএম হেলাল, আসম খালিদ, ফারুক আহমদ, আনিসুল হক প্রমুখ।
নবগঠিত এ কমিটি সুত্রে জানাগেছে, কমিটিতে নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে আহবায়ক করে সবাইকে সদস্য রাখা হয়েছে। কোন সদস্য সচিব বা যুগ্ম আহবায়ক রাখা হয়নি। কমিটিতে ফজলুল হক আসপিয়া এবং নজির হোসেনেরও নাম নেই।

 
 
 

ঢাকা:
বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদ আর নেই (ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জহুরী মহল্লায় নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই সন্তান হুমায়রা বশির ও রাজা বশিরসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। কিংবদন্তি এ শিল্পীর যে গানগুলো মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিন সেগুলো হল: ‘সজনী গো ভালবেসে এত জ্বালা’, ‘কত আশা ছিল মনে’, ‘আমাকে পোড়াতে যদি এতো লাগে ভালো’র মতো কালজয়ী গান।
রোববার সকাল ১০ টায় জহুরী মহল্লার মসজিদে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।

 
 
 

সিলেট,১৯ এপ্রিল:
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও আইএনএম-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খালীকুজ্জামান আহমদ বলেছেন,  দারিদ্র বিমোচনে সরকারের সহযোগী হিসেবে বেসরকারী সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পাওয়া। আমরা এখনও সে জায়গায় যেতে পারিনি। দারিদ্র বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নারীদের অধিকার পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হতে হবে। এ জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে কাজ করতে হবে। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান ঋণ দেয়, তাদেরকে ঋণ গ্রহিতাদের প্রশিক্ষণ দেয়ারও আহবান জানান তিনি।
ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ শনিবার সুিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোফিন্যান্স এর উদ্যোগে দারিদ্র বিমোচনে উন্নয়ন কর্মসূচী ও ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের উন্নয়নের লক্ষ্যে সিলেট অঞ্চলের দিনব্যাপী দুটি পর্বের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন। আইএনএম-এর নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর এম এ বাকী খলীলীর সভাপতিত্বে এবং ঊর্ধ্বতন উপ-পরিচালক আবদুল হাই মৃধার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইএনএম-এর পরিচালক ড. মো: মোসলেহ উদ্দিন সাদেক। বক্তব্য রাখেন আইএনএম-এর প্রশিক্ষণ উপদেষ্টা সাব্বির আহমদ চৌধুরী, জৈন্তিয়া ছিন্নমূল সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এটিএম বদরুল ইসলামসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কর্মকর্তাগণ। দুই পর্বের অনুষ্ঠানে সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহিতাদের সাথে মতবিনিময় এবং বেলা ২ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। -বিজ্ঞপ্তি

   

 
 
 

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ-লন্ডন
ব্রিটেনের প্রতি ছয়টির একটি ইন্সটিটিউশনের হাই ক্লাস ডিগ্রি প্রদান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইউনিভার্সিটির নতুন রিসার্চ টিম, যেখানে দেখা গেছে অক্সফোর্ড সহ ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ক্লাস কিংবা হায়ার সেকেন্ড ক্লাস ডিগ্রি ব্যাপকহারে প্রদান করা হয়েছে, যা ছাত্রছাত্রীদের বিগত কালের রেকর্ড পরীক্ষা করে সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে আজকে নতুন স্টাডি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০১১ সালে যারা গ্র্যাজুয়েট হয়ে বের হয়েছেন, তাদের একাডেমিক প্রোফাইল রিসার্চ করে দেখা হয়েছে।রিসার্চ টিম শিক্ষার্থীদের বিগত স্কুল ও কলেজ লেভেলের একাডেমিক রেজাল্ট পরীক্ষা করেছেন- সে সবের সাথে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রির এওয়ার্ড ক্লাসের ক্ষেত্রে সিগনিফিক্যান্ট তারতম্য রয়েছে।

রিসার্চ টিম সর্বমোট ব্রিটেনের ১২৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট একাডেমিক প্রোফাইল রিসার্চ করেছেন।তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে রাসেল গ্রুপ, অক্সফোর্ড, নিউক্যাসল, ওয়ারউইক, এক্সিটার, কিংস্টন , লন্ডন ইত্যাদি।

রিসার্চ টিম ইউনিভার্সিটির ডিগ্রির এতো ব্যাপক সংখ্যক প্রথম শ্রেণী ও হায়ার সেকেন্ড ক্লাস ডিগ্রি প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম ও সন্দেহ পরিলক্ষনের কথা জানিয়ে লিখছে, এই সব ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্রে সাধারণত: বাইরের এক্সটারনাল দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নম্বর প্রদানের নিয়মের পরিবর্তে বরং ইউনিভার্সিটি নিজেই মার্ক প্রদানের সকল নিয়ন্ত্রণ থেকেই সন্দেহ আরো বেশি ঘনীভূত হয়েছে।

রিসার্চ টিমের মতে, ইউনিভার্সিটি মূলত গণহারে ফার্স্ট ক্লাস ও হায়ার সেকেন্ড ক্লাস প্রদান করে এই বার্তাই দিতে চেয়েছে শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে তারা হার্ড পরিশ্রম করে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে তাদের প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড ও উঁচু মানের।

রিসার্চ টিমের মতে, এক্সটার্ণালরা যে মার্ক দিয়ে থাকেন তা পাস মার্ক, তারা মূলত ডিগ্রি শ্রেণী বিন্যাসের মার্ক প্রদান করেননা।

রিসার্চ টিম দেখতে পেয়েছে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচাইতে কম সংখ্যক প্রথম ও হায়ার সেকেন্ড ক্লাস ডিগ্রি প্রদান করেছে কেবলমাত্র ইমপেরিয়াল কলেজ এবং কিংস কলেজ  অথচ এই দুই কলেজে ভাল ডিগ্রি প্রদানের জন্য আশা সব চাইতে বেশী ছিলো বলে তাদের মত। ২০১১ সালে সবচাইতে বেশী হায়ার সেকেন্ড ক্লাস ডিগ্রি প্রদান করেছে এক্সিটার ইউনিভার্সিটি, যা ৮২.৮ পার্সেন্ট ছাত্র ছাত্রী সেখান থেকে ডিগ্রি নিয়েছেন।

পক্ষান্তরে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি এই টপ দুই ডিগ্রি প্রদানের করেছে ৮৭.৪ পার্সেন্ট আর অক্সফোর্ড প্রদান করেছে ৯০.৯ পার্সেন্ট।

প্রফেসর আলান স্মিত বলেন লিগ টেবিল কেন্দ্রিক শিক্ষার ডিগ্রি হয়ে যাওয়াতে ইউনিভার্সিটি গণহারে প্রথম শ্রেণী বা হায়ার সেকেন্ড ক্লাস দিয়ে সিগন্যাল দিতে চায় লিগ টেবিলে তারা শীর্ষে এবং শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে তারা খুবই পরিশ্রমী ও সুনামের অধিকারী অথচ অনেকের একাডেমিক প্রোফাইলের সাথে সামঞ্জস্য না থাকায় প্রশ্ন থেকেই যায়।               

 
 
 

সিলেট,১৯ এপ্রিল: আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন-রাজনৈতিক কুটকৌশলের কারণে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ১৯৪৭ সালে পাক-ভারত বিভক্তির সময় তৎকালীন পূর্ব বাংলায় সংখ্যালঘুদের পরিমাণ ছিল ৩৭ ভাগ। আর বর্তমানে এই সংখ্যা ৮ ভাগে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সিলেট বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন পাকিস্তানী প্রেতাত্মারা বাংলাদেশে আবারো জেগে ওঠেছে। তারা সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ও ধর্মীয় উপসনালয় পুড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন- একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের প্রত্যাশায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করা হয়েছিল। কিন্তু আজ দেশে সাম্প্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন- পাকিস্তান আমলে চা শ্রমিকরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীনের পর তাদেরকে ভোটাধিকার দিয়েছেন। তার তনয়া শেখ হাসিনা এখনো মানুষের ভোটাধিকার অক্ষুন্ন ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখনো শিশু অবস্থায়। এই শিশু গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে পারলে দুর্বল মানুষ শক্তিশালী হবে। তাই মানবাধিকার কর্মীদের উচিত গণতন্ত্র শাক্তিশালী করতে দুর্বল মানুষের পক্ষে কাজ করা।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী আর কে ধরের সভাপতিত্বে ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব এনামুল হক লিলুর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসাবাহ উদ্দীন সিরাজ, রংপুরের সাংসদ হুসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, সিলেট জেলা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি শামসুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার।        

 
 
 

সিলেট, ১৯ এপ্রিল:
বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার মহা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেছেন, আইনগত দিক থেকে মানি লন্ডারিং একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। মানি লন্ডারিং যারা করে তারা ব্যাংকিং চ্যানেলের অপব্যহার করে। মানি লন্ডারিং এর মাধ্যমে ব্যাংক যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হয় সেইসাথে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হয়। এজন্যে প্রত্যেক ব্যাংকারকে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। আমানত সংগ্রহের সময় পূর্ণাঙ্গ ঠিকানাসহ যাবতীয় তথ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ করতে হবে।
ওয়ান ব্যাংক-এর উদ্যোগে শনিবার নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ট্রেইনিং অন প্রিভেন্টেশন অব মানি লন্ডারিং এন্ড কম্বেটিং ফাইনান্সিং টেরোরিস্ট শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
    প্রধান অতিথি আরো বলেন, মানি লন্ডারিং যাতে কোনভাবে আমাদের ব্যাংকিং সেক্টরে প্রবেশ না করতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। কেননা ওয়ান ব্যাংক-এর অনেকদিনের সুনাম রয়েছে। সেই সুনামকে সকলের ধরে রাখতে হবে।
ওয়ান ব্যাংক প্রধান কার্যালয় ঢাকার এসইভিপি ও কেমেলকো আফতাব উদ্দিন আহমদের পরিচালনায় গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়ান ব্যাংক প্রধান কার্যালয় ঢাকার ডেপুটি কেমেলকো লিয়াকত আলী খান, এসভিপি ও হেড অব রিটেইল গাজী ইয়ার মোহাম্মদ।  অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়ান ব্যাংক লাল দিঘীরপাড় শাখার ভিপি ও ব্যবস্থাপক মইন উদ্দিন আহমদ। এছাড়াও অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার যুগ্ম পরিচালক মো. হারুনূর রশীদ, ওয়ান ব্যাংক সিলেট শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ ওলিউর রহমান, ব্রাহ্মনবাড়িয়া  শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুর রব, সিলেটের ইসলামপুর শাখার ব্যবস্থাপক রাফী সাফকাত, শেরপুর শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ শহিদুর রহমান প্রমুখ। কর্মশালায় ওয়ান ব্যাংক-এর সিলেট, ইসলামপুর, শেরপুর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া ও লালদিঘীর পাড় শাখার কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

       

 
 
 

ঢাকা, ১৯ এপ্রিল: ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা সুব্রাক্ষণিয়ম স্বামী বাংলাদেশের কাছে এক তৃতীয়াংশ ভূখন্ড দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত সমান্তরাল রেখা টেনে এই জমি ভারতের হাতে ছেড়ে দিক বাংলাদেশ।
সামপ্রদায়িক দল বিজেপির এই শীর্ষ নেতার যুক্তি হলো, দেশ ভাগের পর অধুনা বাংলাদেশ থেকে এক তৃতীয়াংশ মুসলমান ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে বাংলাদেশকে। অন্যথায় এসব মুসলমানের সংস্থাপনের জন্য বাংলাদেশকে এক তৃতীয়াংশ ভূখন্ড জমি ছাড়তে হবে ঢাকাকে।
শনিবার আসামের শিলচর থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গ এ খবর প্রকাশিত হয়।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বামীর যুক্তি হলো-সৌদি আরব, কুয়েত, কাতারসহ বিশ্বের যেসব দেশে মুসলমানদের সংখ্যাধিক্য সেখানে হিন্দুরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এমনকি প্রকাশ্যে ধর্ম পালনেরও অধিকার নেই তাদের। একমাত্র ভারতেই যেহেতু হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই এই দেশ ধর্মনিরপেক্ষ। ফলে সীমান্তপার (বাংলাদেশ) অনুপ্রবেশ সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সাময়িক প্রসঙ্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃটেনের হাউজ অব কমন্সে ১৯৪৭ এর জুনে ভারতের দেশভাগ নিয়ে বিতর্ক এবং ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স অ্যাক্ট-এর মৌলিক প্রসঙ্গ টেনে যে তত্ত্বের যুক্তিজাল এদিন সামনে রাখলেন স্বামী, এককথায় তার সারমর্ম হলো, মানুষের বোঝা চাপিয়ে দিলে দিতে হবে জমিও।

সুব্রাক্ষণিয়ম স্বামীর বক্তব্য হলো, ধর্মের ভিত্তিতে দ্বিধাবিভক্ত হয়েছিল ভারত ভূখন্ড। তাই পাকিস্তান বা অধুনা বাংলাদেশ থেকে এদেশে যেসব মুসলমান অনুপ্রবেশ করেছে তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে বাংলাদেশকে। অন্যথায় এদের সংস্থাপনের জন্য জমি ছাড়তে হবে ঢাকাকে।

স্বামীর মতে, অধুনা বাংলাদেশ ভূখন্ড থেকে এক-তৃতীয়াংশ মানুষ সীমান্ত টপকে ঢুকেছে এদেশে। তাই এদের ফিরিয়ে না নিলে বাংলাদেশকে ছেড়ে দিতে হবে সে দেশের এক-তৃতীয়াংশ ভূখন্ড।

স্বামীর প্রস্তাব, খুলনা থেকে সিলেট অবধি সমান্তরাল রেখা টেনে এই জমি ভারতের হাতে ফেরত দিক বাংলাদেশ। তবে স্বামী জানিয়েছেন, এ নিয়ে তিনি এখনো মোদি বা বিজেপির সঙ্গে কথা বলেননি ঠিকই, কিন্তু নতুন এই তত্ত্বের কথা যথাসময়ে দেশের সংসদে উত্থাপন করবেন। সংসদে এ নিয়ে বিতর্ক হওয়া প্রয়োজন সে কথা তিনি দলীয় নেতৃত্বকে বুঝিয়ে বলবেন।

সাময়িক প্রসঙ্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার একদিনে সফরে গৌহাটিতে পা রেখেছিলেন স্বামী। উদ্দেশ্য, দলের নির্বাচনী বাতাস বইয়ে দেয়া। কোনো প্রচার সভায় ভাষণ না দিলেও স্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে এক আলাপতারিতায় অংশ নেন তিনি। মুখোমুখি হন সাংবাদিকদেরও।               

 
 
 
 
 
কবিতা
শিল্প-সাহিত্
মিডিয়া
ইসলাম
Image Missing
 
 
বিনোদন
বিনোদন
বিচিত্রা
বিচিত্রা
মুক্তমঞ্চ
Image Missing
 
 
খেলাধুলা
খেলাধুলা
স্বাস্থ্য
স্বাস্থ্য
তথ্য-প্রযুক্তি
তথ্য-প্রযুক্তি
 
 
সংবাদদাতা
জীবন সদস্য
সম্পাদক
 
দেশ বিদেশ
 
 
 

ঢাকা, ২০ এপ্রিল: রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে দ্রুত একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন । রবিবার সকালে রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুজন নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুজন নির্বাহী সদস্য জনাব আলী ইমাম মজুমদার ও অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি জনাব ইঞ্জিনিয়ার মুসবাহ আলীম ও সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী জনাব দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ।


মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, প্রার্থীগণ কর্তৃক প্রদত্ত হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, ‘শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে অধিকাংশই (২৭৫ জন বা ৭৮.৫৭%) স্নাতক বা স্নাতকোত্তর। বাংলাদেশ  আওয়ামী লীগের ২৭৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে এই হার ৮০.৫৮% (২২০), জাতীয় পার্টির ৪০ জনের মধ্যে ৭৭.৫% (৩১ জন), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের ৬ জনের মধ্যে ৬৬.৬৬% (৪ জন), জাতীয় পার্টি-জেপি’র ২ জনের মধ্যে ৫০% (১ জন) এবং স্বতন্ত্র ১৯ জনের মধ্যে ৫৭.৮৯% (১১ জন)। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ৭ জনসহ বিএনএফ-এর একজন, সকলেরই (১০০%) শিক্ষাগত যোগ্যতাই স্নাতক বা স্নাতকোত্তর।’

তিনি বলেন, ‘পেশার ক্ষেত্রে ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে অধিকাংশই (১৭৫ জন বা ৫০%) ব্যবসায়ী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২৭৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে এই হার ৫২.০১% (১৪২ জন), জাতীয় পার্টির ৪০ জনের মধ্যে ৪৫% (১৮ জন), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ৭ জনের মধ্যে ১৪.২৮% (১ জন), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের ৬ জনের মধ্যে ৫০% (৩ জন) এবং স্বতন্ত্র ১৯ জনের মধ্যে ৫৭.৮৯% (১১ জন)। অবশ্য ৩০০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ব্যবসায়ীদের হার আরও বেশি (১৬৩ জন বা ৫৪.৩৩%) ব্যবসায়ী।’

প্রার্থীদের মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে জনাব দিলীপ সরকার বলেন, ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩১ জনের (৮.৮৫%) বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা আছে, অতীতে মামলা ছিল ১৪৩ জনের (৪০.৮৫%) বিরুদ্ধে, অতীত ও বর্তমান উভয় সময়ে মামলা ছিল বা রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ২৩ জন (৬.৫৭%)।’

সুজন কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী বলেন, ‘৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে বাৎসরিক ৫ লক্ষ টাকার কম আয় করেন ৮০ জন (২২.৮৫%) প্রার্থী । সর্বোচ্চ ৩৫.৪২% (১২৪ জন) প্রার্থীর বাৎসরিক আয়সীমা ৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে বাৎসরিক ৫ লক্ষ টাকার কম সমপদের মালিক মাত্র ১২ জন (৩.৪২%)। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে অধিকাংশ (২২৬ জন বা ৬৪.৫৭%) সংসদ সদস্যরই সমপদ কোটি টাকার উপরে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২৭৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে এই সংখ্যা ১৯৪ জন (৭১.০৬%), জাতীয় পার্টির ৪০ জনের মধ্যে ১৮ জন (৪৫%), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ৭ জনের মধ্যে ১ জন (১৪.২৮%), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের ৬ জনের মধ্যে ১ জন (১৬.৬৬%), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ২ জনের মধ্যে ২ জন (১০০%), জাতীয় পার্টি- জেপির ২ জনের মধ্যে ১ জন (৫০%) এবং স্বতন্ত্র ১৬ জনের মধ্যে ৮ জন (৫০%)।’

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রার্থীগণ হলফনামায় যে তথ্য দাখিল করেন তা যাচাই-বাছাই ও খতিয়ে দেখার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। নির্বাচনী অঙ্গনকে কলুষমুক্ত করার জন্য এ তথ্য খতিয়ে দেখার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বদিউল আলম বলেন, নির্বাচন কমিশন এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ তথা বসন্তের কোকিলদের নির্বাচনী অঙ্গন থেকে দূরে রাখা সম্বব হবে। হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রদান একটি দ-নীয় অপরাধ। কারণ দ-বিধি ১৮১ ধারা অনুযায়ী, হলফনামায় অসত্য ও ভুল তথ্য প্রদান করলে ৩ বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ৩০০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৫৮ জন আয়কর প্রদান করলেও বার্ষিক ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আয় করলেই আয়কর প্রদান করতে হয়। তাহলে কি আমরা ধরে নেব বাকী ৪২ জন সংসদ সদস্যগণ কেউই ২ লক্ষ টাকা আয় করেন না। কিন্তু এ তথ্য আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়।’ দু-একজন এরকম প্রার্থী থাকতে পারে কিন্তু বাকীরা সবাই আয়করের তথ্য গোপন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
               

 
 
 
 
 
 

ঢাকা: বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরা তাদের গঠনতন্ত্র মানে না। দলের ভেতরেই জেঁকে বসে আছে একনায়কত্ব। ফলে যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসছে না।
তবে অন্য দলগুলো থেকে এদিক থেকে ব্যতিক্রম জামায়াতে ইসলামী। তারা গঠনতন্ত্র থেকে শুরু করে আর্থিক বিষয়াদি ঠিকমত পরিচালনা করে আসছে।
শনিবার বিকেলে নিজস্ব অডিটোরিয়ামে এশিয়াটিক সোসাইটির ত্রৈমাসিক সাধারণ সভায় এমন মত দেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সিপিডির ফেলো ড. রওনক জাহান।
সভায় ড. রওনক জাহান ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল: গণতন্ত্রায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা উপস্থাপন করেন। ২০১১-১২ সালে শুরু করা এই গবেষণায় ড. রওনক জাহান প্রধান চারটি রাজনৈতিক দলের চরিত্রের বিশ্লেষণ দেখিয়েছেন।

তাঁর মতে, বর্তমান যেসব রাজনৈতিক দল রয়েছে, তাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কোন আদর্শ খুঁজে পাওয়া যায় না। আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতের মধ্যে কিছুটা আদর্শিক চর্চা থাকলেও বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির কোন আদর্শ নেই। দুটি দলই একই প্রক্রিয়ায় জন্ম নিয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

রওনক জাহান বলেন, প্রধান দলগুলোর কেউই তাদের গঠনতন্ত্র মেনে রাজনীতি করে না। প্রত্যেক তিন বছর পর কাউন্সিলে নতুন নেতৃত্ব তৈরির কথা বলা হলেও একমাত্র জামায়াতে ইসলামী ছাড়া কেউ সেটি করছে না।

তিনি গবেষণায় দেখান, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাত্র ৫টি কাউন্সিল করেছে। সর্বশেষ ১৬ বছরে কাউন্সিল হয়েছে মাত্র দুটি। কিন্তু নতুন কোন নেতৃত্ব আসেনি। আওয়ামী লীগ তাদের কাউন্সিল মোটামুটি নিয়মিত করার চেষ্টা করলেও গণতান্ত্রিক উপায়ে কোন নেতৃত্ব আসছে না। সভা শেষে দলীয় সভানেত্রীর কাছে একটা তালিকা দেয়া হয়, সেখান থেকে তিনি তার পছন্দ অনুযায়ী কতিপয় লোককে নেতৃত্বে বসান।

এক্ষেত্রে জামায়াতকে আদর্শিক দল দেখিয়ে গবেষণায় বলা হয়েছে, দলটির আদর্শ অন্যদের থেকে আলাদা। জামায়াত তাদের সাংগঠনিক কাজ খুবই সুষ্ঠুভাবে করে থাকে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের কর্মী সংগ্রহকে দলটি খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা দল পরিচালনায় নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থায়ন (চাঁদা) দেয় এবং সেগুলো রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে হিসাবও রাখা হয়। জামায়াত তাদের সকল পর্যায়ে ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির চর্চা করে থাকে। কিন্তু অন্য কোন দলের মধ্যে কর্মী সংগ্রহ বা দলীয় অর্থায়নের চাঁদার সুনির্দিষ্ট কোন হিসাব দেখা যায় না।

গবেষণায় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির পরে প্রধান দুটি দল জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের মধ্যকার তুলনামূলক ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয়েছে। সেখানে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মাদ এরশাদের জাতীয় পার্টি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বলা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির রংপুর অঞ্চলে কিছুটা আঞ্চলিক জনপ্রিয়তা রয়েছে। যেটি জামায়াতেরও বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এর সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক দর্শন ধর্মীয় হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মীয় জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে জামায়াত জাতীয় পার্টির চেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে।

গবেষণায় চারটি বড় রাজনৈতিক দল নিয়ে আলাদা আলোচনা করা হলেও জাতীয় পার্টি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উল্লেখ করা হয়েছে। ড. রওনক জাহান বলেন, ‘বর্তমানে অনেকগুলো ছোট দল আরও ছোট হতে হতে একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যে জাতীয় পার্টি একেবারে বিলীন হওয়ার পথে এবং এটি বেশ উদ্বেগজনক।’

আর তিনি এক্ষেত্রে সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন টেনে এনেছেন। বলেছেন, ‘নির্বাচনে জাতীয় পার্টির বিলীন হওয়ার বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে, তারা সত্যিকার অর্থেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এভাবে আরও কিছু দিন চলতে থাকলে আগামীতে দলটি যে কোন দুটি গ্রুপের অধীনে রাজনৈতিকভাবে বন্দি হয়ে যাবে।’

রওনক জাহান মনে করেন, রাজনীতিতে খুব তাড়াতাড়ি আরেকটি মেরুকরণ হবে এবং এটি হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

রাজনীতি ব্যবসায়িদের দখলে চলে যাচ্ছে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘উন্নত দেশে নিয়ম আছে ব্যবসায়িরা রাজনীতিতে আসলে সব কিছু পরিত্যাগ করে আসতে হবে। যতদিন জনপ্রতিনিধি থাকবেন, ততদিন এমপি-মন্ত্রীর ক্ষমতা বলে নিজস্ব ব্যবসায়ে কোন ফাইদা নিতে পারবে না।’

সিপিডির এই ফেলো বলেন, ‘আমাদের দেশেও এ আইনের প্রয়োগ করতে হবে। যদিও নির্বাচন কমিশনের হলফনামা প্রকাশের পর রাজনীতিকরা এটাকে চরিত্র হননের মধ্যম বলে আখ্যা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এখন রাজনীতিতে ঝুঁকি বেড়ে গেছে। ফল মেধাবীরা আসতে চাই না। বর্তমানে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু তারপরও সাংঘর্ষিক রাজনীতির চর্চা হচ্ছে। সাংঘর্ষিক রাজনীতি ও নির্বাচনী রাজনীতি একাকার হয়ে যাচ্ছে।’

রওনক জাহান বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা চিন্তা করছেন নির্বাচনের আগে শক্তি দেখাতে না পারলে মনোনয়ন পাবেন না, নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। এজন্য তারা ওই পথেই হাঁটছেন।’

সভায় ড. রওনক জাহান নিজের সম্পর্কেও কথা বলেন। আগতদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা সুশীল সমাজের প্রতিনিধি আছি, বিশেষ করে কামাল হোসেন বা আমার মত কারও পক্ষে এখন আর রাজনীতি করা সম্ভব না। কারণ রাজনীতি করতে গেলে জেল খাটতে হয়। আগে জেলে বিশেষ লোকদের জন্য প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দেওয়া হতো। কিন্তু এখন রাজনীতিকদের সবার জন্য প্রথম শ্রেণী তো দেওয়া হয়-ই না বরং আরও অনেক সমস্যা তৈরি করা হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে রওনক জাহান বলেন, ‘রাজনীতি যারা করেন, তারা মূলত ক্ষমতার জন্যই করছেন। তবে দেখতে হবে সেই ক্ষমতা কোথায় ব্যবহৃত হচ্ছে, এটা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিকদের কাছে এখন মানুষের চাহিদাও পাল্টে গেছে। ’৭০ র দশকে জনগণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভোট দিয়েছে, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন নয়, জাতীর মুক্তির জন্য। অবশ্য পরে সেই তিনিই একদলীয় শাসন কায়েমে বাকশালও করেছেন।’

রওনক জাহান বলেন, ‘আর এখন জনগণ ভোট দেয় জাতীয় মুক্তির জন্য নয়। তারা প্রতিনিধি বাছাইয়ের সময় জানতে চান- রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন হবে কি না, বিদ্যুৎ ও ছেলে-মেয়ের চাকরি হবে কি না ইত্যাদি। আর রাজনীতিকরা জনগণের এই চাহিদাকে পুঁজি করে সুযোগ নিচ্ছে। তারা সুশাসনের জন্য রাজনীতি করছেন না।’

তিনি বলেন, এখন রাজনৈতিক সহিংসতায় নিজ দলের লোকের হাতে বেশি খুন হচ্ছে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে কম লোক মারা যাচ্ছে।

ত্রৈমাসিক সাধারণ সভায় ড. আমিরুল ইসলামের পরিচালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন- এশিয়াটিক সোসাইটির সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল আওয়াল মিয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শরিফ উদ্দিন আহমেদ, মকিম হোসেন প্রমুখ। 

 

    সুত্র:আরটিএনএন                

 
 
 
 
 
 

শফিউল আলম দোলন: বিএনপির সঙ্গে চরম টানাপড়েন চলছে ১৯-দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর। একে-অন্যকে আর তেমন একটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তা ছাড়া সাম্প্রতিক আন্দোলন ও উপজেলা নির্বাচনের সাফল্যে নিজেদের ওপর আস্থা বেড়ে গেছে জামায়াতের। উপরন্তু মাওলানা সাঈদী ও নিজামীসহ দলের শীর্ষ নেতাদের সাজা কমানোর ব্যাপারেও ভেতরে ভেতরে সরকারের সঙ্গে তারা দেনদরবার করছেন বলেও সন্দেহ করছে বিএনপি। ফলে জোটের নেতৃত্বাধীন দল বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব বাড়ছে। এমনকি সহসাই জোট ছাড়তে পারে ১৯-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এই ইসলামী দলটি। আকারে-ইঙ্গিতে সম্প্রতি এ কথা বিএনপিকে জানিয়েও দিয়েছেন তারা। আর এটা অাঁচ করতে পেরেই বেগম খালেদা জিয়া জোটের বৈঠকে ঢাকা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হালিমের উপস্থিতিতে পরিষ্কার জানতে চেয়েছেন, \'জামায়াত আসলে কোন পথে?\' আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের গোপন সমঝোতার আশঙ্কা প্রকাশ করে উদ্বেগও জানিয়েছেন বেগম জিয়া।

জামায়াত নেতাদের মতে, সারা দেশে তাদের সংগঠনটি এখন বিএনপির চেয়েও অধিক শক্তিশালী। জামায়াতের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা জানান, কাদের মোল্লার ফাঁসিসহ দল ও শীর্ষ নেতাদের চরম দুর্দিনে বিএনপির কোনো সহযোগিতা পায়নি জামায়াত। সাম্প্রতিক আন্দোলনেও বিএনপি নেতারা তেমন একটা মাঠে ছিলেন না এবং অদূর ভবিষ্যতেও বিএনপিকে দিয়ে জোরালো কোনো আন্দোলন হবে বলে আস্থায় আনতে পারছেন না তারা। ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসায় গৃহবন্দী অবস্থায় থাকলেও বিএনপির একজন নেতাও তার প্রতিবাদে মাঠে নামেননি। ২৯ ডিসেম্বরের \'মার্চ ফর ডেমোক্রেসি\' কর্মসূচির দিন বিএনপির একজন নেতা দূরে থাক একজন কর্মীকেও মাঠে দেখা যায়নি।

একমাত্র জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরাই সেদিন ঢাকার রাজপথে নেমেছিলেন এবং মালিবাগে পুলিশের গুলিতে একজন নিহতসহ ১৫ জন আহত হয়েছিলেন। অন্যদিকে সাম্প্রতিক উপজেলা নির্বাচনে দেশব্যাপী এত দমন-পীড়নের মধ্যেও জামায়াত আশাতীত সফল হয়েছে। এতে নিজেদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস অনেক গুণ বেড়ে গেছে তাদের। ফলে তারা বিএনপিকে আর আগের মতো আস্থায় রাখতে পারছে না।

বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের দলীয় শীর্ষ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ফাঁসির হাত থেকে বাঁচাতে সরকার ও আওয়ামী লীগের উচ্চ একটি অংশের সঙ্গে দেনদরবার চলছে। প্রক্রিয়াটি সফল হলে জামায়াত নিজেই ১৯-দলীয় জোট ও বিএনপিকে ছেড়ে চলে যেতে পারে। বিষয়টি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জানতে পেয়ে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বগুড়ার মতো বিএনপির শতভাগ ঘাঁটিতে বিএনপির প্রার্থীর বিপরীতে প্রার্থী দিয়ে মিছে জনপ্রিয়তা অর্জনের জামায়াতি প্রচেষ্টাকেও ভর্ৎসনা করেন তিনি।

বিএনপির অন্য একটি সূত্র জানায়, সারা দেশে জামায়াত-শিবির নেতাদের ধরপাকড় বন্ধের পাশাপাশি তাদের গ্রেফতার-হয়রানি বন্ধসহ রাজনৈতিক সুযোগ প্রদানের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে জামায়াতের দেনদরবার হচ্ছে। এসব প্রস্তাব বিবেচনায় রেখেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সামনে এগোচ্ছে। আর তারই অংশ হিসেবে জামায়াতও কিছু দিন ধরে রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রদান থেকে নীরব রয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সমঝোতা এবং শাহবাগ থেকে ইমরান এইচ সরকারসহ গণজাগরণ মঞ্চ উৎখাতের বিষয়গুলোর যোগসূত্র রয়েছে বলে ধারণা করছে বিএনপি। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক একজন উপদেষ্টা এবং জামায়াতের একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল (যিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন) এ সমঝোতা প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন বলে জানা যায়।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শুরার একজন প্রভাবশালী সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপিকে দিয়ে আর আন্দোলন হবে না। কারণ বিএনপি আন্দোলনের দল নয়। তারা হলো অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ক্ষমতায় গিয়ে সুযোগ-সুবিধা ভোগের দল। রাজপথে আন্দোলনে নামার কোনো আগ্রহ, পরিকল্পনা বা মানসিকতা কোনোটাই বিএনপির নেই। এমনকি সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সামর্থ্য নিয়েও এখন মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে। কাজেই জোট নেত্রী যত হুঙ্কারই দিন না কেন, বিপদে যে তার পাশে কেউ নেই সে কথা সেনানিবাসের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া এবং ২৯ ডিসেম্বর \'মার্চ ফর ডেমোক্রেসি\' কর্মসূচিসহ গত পাঁচ বছরে বারবার প্রমাণ হয়েছে।

তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ঢাকা মহানগরীর আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সরকারের সঙ্গে জামায়াতের গোপন সমঝোতা প্রক্রিয়ার কথা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে একটি অপপ্রচার, যা জনপ্রিয় দল জামায়াতের বিরুদ্ধে চলমান গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশমাত্র। এ সরকারের সঙ্গে জামায়াতের সমঝোতার কোনো প্রশ্নই আসে না। মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হালিমের ভাষ্য হলো, উপজেলা নির্বাচনের আগে নানা সমস্যার কারণে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের যোগাযোগের কিছুটা ঘাটতি থাকলেও আমরা এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। আমরা জোটের সঙ্গে আছি, ভবিষ্যতেও এ জোট অটুট থাকবে।

সৌজন্যে :বাংলাদেশ প্রতিদিন    

 
 
 
 
 
 

সোলায়মান তুষার:
শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন। সমপ্রতি সেখান থেকে ইস্তেফা দিয়েছেন। চাকরি ছাড়ার পর তিনি দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তিনি যেকোন মুহূর্তে দেশ ছাড়তে পারেন। তার প্রথম টার্গেট কানাডা। এছাড়া ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোন একটি দেশে যেতে পারেন তিনি। চাকরি ছাড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইমরান। তবে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনার বিষয়টি স্বীকার করেননি। অন্যদিকে গতকাল গণজাগরণ মঞ্চের মূখপাত্র থেকে ব্লগাররাও তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এর আগে মঞ্চেরই একটি অংশ তাকে মুখপাত্রের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। এর আগে ৭ই ডিসেম্বর তিনি কানাডা পালিয়ে যেতে চাইলেও উপরের নির্দেশে বিমানবন্দর পুলিশ তাকে বাধা দেয়। ইমরান তার নিজস্ব চাকরি থেকে ইস্তেফা দেয়ায় তার দেশ ছাড়ার বিষয়টি জোরালো হয়েছে। বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে গণজাগরণ মঞ্চের নামে উত্তোলন করা কোটি কোটি টাকা তিনি বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এসব টাকা পাচার করেছেন বলে জানিয়েছে মঞ্চেরই একটি অংশ। সূত্র জানায়, ইমরানের ঘনিষ্ঠ ও মঞ্চের এক নারীকর্মী দুই দফা কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্য গিয়ে টাকা রেখে আসেন। তিনি প্রথম কানাডা যান গত বছরের এপ্রিলে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি গড়ে ওঠে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ। এ মঞ্চের নামে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা ওঠানো হয়েছে তার দু’টি তালিকা এসেছে এ প্রতিবেদকের কাছে। তালিকা দু’টি ফেসবুক, ব্লকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি তালিকায় ৩৬ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি এবং অপর তালিকায় ২৮টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নাম দেয়া হয়েছে। ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা ওঠানো হয়েছে বলে হিসাব দেখানো হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ডা. ইমরান। তবে এসব টাকা তার নিজের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন। যেসব ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন তার মধ্যে রয়েছেন একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামনিস্ট। তিনি তিন দফায় দিয়েছেন আড়াই লাখ টাকা। এ টাকা ইমরানের কাছে দেয়া হয়েছে মঞ্চের অন্যতম সংগঠক গৌরব ৭১’র সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহীনের মাধ্যমে। পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা এসপি মাহবুব দিয়েছেন ৪ লাখ টাকা। এ টাকা ইমরানের হাতে দেয়া হয় মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ও ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসুর সামনে। বাপ্পাদিত্যর পরিচিত কানাডা প্রবাসী জিয়াউল হক মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। একজন সিনিয়র আইনজীবীও দিয়েছেন টাকা। একটি পত্রিকার মাধ্যমে গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি প্রবাসীদের ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৮৩ টাকা দেয়া হয় ইমরানের কাছে। এটি পরের দিন পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়। গত বছরের ৬ই ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ওঠানো হয় প্রায় ৪৩ হাজার টাকা। গণজাগরণ মঞ্চের প্রথম ৪ দিন জাগরণ মঞ্চের মিডিয়া সেলের রেজিস্ট্রার খাতার হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৪৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এ টাকা বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি থেকে আসা। এ রেজিস্ট্রার নিয়ন্ত্রণ করতেন মঞ্চের আরেক সংগঠক মাহমুদুল হক মুন্সী। পরে এ রেজিস্ট্রার খাতা গায়েব করে ফেলেন ইমরান। এর হিসাব ইমরান ছাড়া কারও কাছে নেই। ইমরান টাকা নিয়েছেন জামায়াত সমর্থিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ব্যাংক ও ফার্ম থেকেও। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায়ের পর চাপে পড়ে ফের কমপক্ষে ২০টি প্রতিষ্ঠানের টাকা ফেরতও দিতে হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন মঞ্চেরই একজন সংগঠক। ইমরান এইচ সরকারের অর্থনৈতিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি সামনে আসে কয়েকদিন পরই। তার প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনের এক পর্যায়ে নোট অব ডিসেন্টও দেয় ছাত্র ফেডারেশন। কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু’র দোতলায় একাধিক দিন আলোচনা হয়। নানা বিতর্কের মাঝেই ইমরান এইচ সরকারকে মঞ্চের আহ্বায়ক থেকে অব্যাহতি দিয়েছে মঞ্চেরই একটি অংশ। ১২ই এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে ইমরান এইচ সরকারকে অব্যাহতি দেন মঞ্চের অন্যতম সংগঠক কামাল পাশা চৌধুরী। ‘গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও সংগঠকবৃন্দের ব্যানারে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এর আগে একই ব্যানারে ৪ঠা এপ্রিল ইমরানকে শাহবাগ এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। গণজাগরণ মঞ্চের ব্যানার ব্যবহার করে ইমরান সমপ্রতি ঘোষণা দেন রাজনৈতিক দল গঠনের। এ নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। মঞ্চের কর্মীদের মধ্যে বিভেদ প্রকট হয়েছে। ইতিমধ্যে কামাল পাশা গ্রুপের এক কর্মীকে আহত করার অভিযোগ তোলা হয়েছে ইমরান গ্রুপের বিরুদ্ধে।
ছাত্র সংগঠনগুলোর সরে যাওয়া: গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে জড়িত বেশির ভাগ সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতারা সরে গেছেন। হাইকমান্ডের নির্দেশে গত বছরের ২৬শে মার্চ সরে যায় ছাত্রলীগ। এরপর ২০৫টি সামাজিক সংগঠন সরে দাঁড়ায় মঞ্চ থেকে। বাম ছাত্র সংগঠন ছাত্রমৈত্রী, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র সমিতি ও ছাত্র ঐক্যফোরাম সরে পড়ে এ মাসে। এসব সংগঠনের নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
ইমরানকে অব্যাহতি দিলেন ব্লগাররা: গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারকে অব্যাহতি দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্ক (বোয়ান)। ইমরান বোয়ানের  আহ্বায়ক ছিলেন। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইমরানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে অব্যাহতি দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্লগার অনিমেষ রহমান। ২০১৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয়েছিল বোয়ান। তবে বোয়ানের নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে ইমরানকে সংগঠনটির আহ্বায়ক পদের ওপর অনাস্থা জানায়। তিনি বলেন,  বোয়ান গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে আছে ও থাকবে। কিন্তু কোনো খণ্ডিত অংশের সঙ্গে তারা যাবে না। এই মুহূর্তে গণজাগরণ মঞ্চ সার্বিক অর্থে আর কার্যকর নেই। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ইমরান এইচ সরকার তার নৈতিক অবস্থান হারিয়েছেন। একই সঙ্গে বোয়ানের আহ্বায়ক হিসেবেও তিনি তার  নৈতিক অবস্থান হারিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ইমরান এইচ সরকারকে মুখপাত্র বানিয়েছিল, তাদের কেউ এখন গণজাগরণ মঞ্চে আসে না। ইমরানের ব্যক্তিগত বক্তব্যকে গণজাগরণ মঞ্চের বক্তব্য হিসেবে চালানো যাবে না। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকেরা জানান,  বোয়ানের ২৫ জন সদস্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। এ কমিটি বোয়ানের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ করবে। এই কমিটিতে ইমরান এইচ সরকারকে রাখা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কানিজ আকলিমা সুলতানা, প্রীতম আহমেদ, রাশিদুল হাসান,  মোরসালিন মিজান প্রমুখ।
ইমরান এইচ সরকারের বক্তব্য: ইমরান এইচ সরকার সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গণজাগরণ মঞ্চকে বিতর্কিত করতেই এ ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে। আন্দোলন চালাতে অনেকেই টাকা দিয়েছেন বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। বলেন, এ টাকা বিভিন্ন খাতে সঙ্গে সঙ্গে ব্যয় করা হয়েছে। কোন আয় রাখা হয়নি। অনেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন। টাকার হিসাব নিয়ে ডাকসু’র দোতলায় কয়েকবার আলোচনার বিষয়টিও স্বীকার করেন। বিদেশে শত কোটি টাকা পাচারের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি ডাঁহা মিথ্যা কথা। আমি একটি টাকাও পাচার করিনি। নিজে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টিও অস্বীকার করেন। এর আগে কানাডা পালানোর প্রচেষ্টার বিষয়টিও অস্বীকার করেন। আর্থিক বিষয়টি তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না বলে জানান। তিনি বলেন, আমি কোন টাকা গ্রহণ করিনি। তবে কারা টাকা দিচ্ছে জানতাম। ব্যক্তিগতভাবে আমি লাভবান হইনি। বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তাকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে কেউ অব্যাহতি দিতে পারে না। যারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা মঞ্চের কেউ নন। চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনে জড়িত হওয়ার পরই আমি ইস্তফা দিয়েছি। সরকারি চাকরিতে থেকে এ ধরনের আন্দোলন করা নৈতিকতাবিরোধী। এখন আপনার ব্যয় চলে কিভাবে জানতে চাইলে বলেন, আমি এখন একটি মেসে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকি। মেসে থাকতে বেশি টাকার দরকার হয় না। এ ব্যয় আমি পরিবার থেকেই পাই। ইমরান বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। মঞ্চের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার বিষয়ে বলেন, মানুষের আস্থা কমেনি। বরং বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে আমাদের একটি সমাবেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ হয়েছে। আমাদের আন্দোলন ইস্যুভিত্তিক। এটা চলতে থাকবে। প্রতিদিন করতে হবে বিষয়টি এমন নয়। যখনই প্রয়োজন হবে তখনই আন্দোলন হবে।

সুত্র:মানবজমিন                

 
 
 
 
 
 

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ-লন্ডন থেকে
অর্ধ শতাব্দী ধরে কম্যুনিস্ট শাসিত দেশ কিউবা, বর্তমানে আলু থেকে ডিওডোরেন্ট, টয়লেট পেপার থেকে বিয়ারের বোতল- হেন কোন আইটেম নেই এখন যেখানেই যাওয়া হয়, সেখানেই শুধু নেই নেই। সাপ্লাই আসেনি, কবে আসবে তার আর নিশ্চয়তাও নেই।
এমনি এক অবস্থায় বর্তমানে আরো এক নতুন সমস্যা, কিউবান ব্লগার আর নিউজ পেপার ভ্যানগার্ড, দেশের ফার্মাসিস্টদের সূত্রে জানা গেল সেখানকার বিভিন্ন প্রভিন্সে এখন কনডমের স্বল্পতা দারুণ। ফার্মেসিগুলোতে খোজ নিয়েও কনডম পাওয়া যাচ্ছেনা। কবে যে পাওয়া যাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই বলে জানা গেছে। ব্রিটেনের গার্ডিয়ান এ ব্যাপারে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের তথ্য মতে কিউবার প্রভিন্স সান্টা ক্লারা হলো এইচআইভি সংক্রমণের জন্য সবচাইতে ভয়াবহ অবস্থা। ২০০৫ সাল থেকেই হোর মতে সেখানে এইডস রোগ ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক হারে। সেখানে কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট রাহুল ক্যাস্ট্রোর মেয়ে ম্যারিয়েলা এইড রোগীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনিও সেই দ্বীপে কনডম এর সরবরাহ চেয়ে নোট পাঠিয়েছেন ফার্মাসিস্টদের কাছে।
কিউবার সেন্ট্রাল প্রভিন্স ভিলা ক্লারা গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই কনডম সংকটে পড়ে। সেখানকার ফার্মেসীগুলোর কনডম শেলফ খালি পড়ে আছে। কিউবার অন্যান্য শহর সহ ক্যাপিটাল হাভানাতেও এই সপ্তাহ থেকেই কনডম স্বল্পতার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
ব্লগার পলিনা মার্টিনেজ জানালেন হাভানাতেও কনডমের স্বল্পতা শুধু নয়, বর্তমানে ফার্মেসীগুলোতে নেই বললেই চলে।
তিনি জানান বেশ কতিপয় নামী দামী ফার্মেসীগুলোকে একত্রিত করে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে, তারা জানালেন, কবে সাপ্লাই আসবে তাদের নেই কোন ধারনা। তিনি জানালেন এর ফলে যৌনবাহি মারাত্মক রোগ সংক্রমণের ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং অনভিপ্রেত প্র্যাগন্যান্সির সমূহ সম্ভাবনা প্রবল।
একই অভিমত নিউজপেপার ভ্যানগার্ডা সহ মিয়ামি বেইসড ইন্ডিপেন্ডেন্ট নেটওয়ার্কেরও।
জুয়ান কার্লোস গনজালেস সরকারি এনজুইম নামক সরবরাহকারী (আমদানীকারক)জানালেন, চায়না কিউবাতে কনডম সরবরাহ কয়রে থাকে।ওয়ার হাউসে মিলিয়ন বক্স কনডম পড়ে আছে, ডেইট এক্সপায়ার্ড অবস্থায়। সেক্ষেত্রে নতুন করে লেভেল লাগিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। যা বর্তমানে দিনে ১,৪৪০ স্ট্রিপ প্যাকেজ করা সম্ভব হচ্ছে, অথচ কেবল ভিলা ক্লারা প্রভিন্সেই চাহিদা প্রতিদিন ৫০০০ স্ট্রিপের কনডমের।কনডমের এই ক্রাইসিসের জন্য তিনি চায়নাকে দায়ী করলেন।
সূত্রঃগার্ডিয়ান           

 
 
 
 
 
 

ঢাকা, ১৯ এপ্রিল:
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। গ্রেপ্তার হওয়ার কারণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারেননি।
শনিবার বিকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপেস্নামা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক মহিলা দলের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের ভূমিকা তুলে ধরে কর্নেল অলি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছিল। এর সঙ্গে ছিল বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। সেই সময় আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মীকে চোখে পড়েনি।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা ছাড়া বাকি সবাই নির্যাতিত হয়েছে। ১৫ মাসে ছয় হাজার নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদের অভিশাপ একদিন আপনাদের লাগবেই।

কর্নেল অলি বলেন, যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দেশের ক্ষতি করেছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কারণ এরা সবাই বিদেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে, সুযোগ পেলেই চলে যাবে।

গণতান্ত্রিক মহিলা দলের সভানেত্রী তাহমিনা আজাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন মোস্তফা, মহানগর সভাপতি এম এম খালেদ সাইফুলস্নাহ প্রমুখ।           

 
 
 
 
 
 

ঢাকা, ১৯ এপ্রিল  :
তিস্তা অভিমুখে বিএনপির লংমার্চে জনগণের অংশ নেয়ার আহ্বান সংবলিত প্রচারণা শুরু করেছে বিএনপি। রাজধানীর নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার ও যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জনগণের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন। শনিবার দুপুর ৩টা থেকে ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত তারা এ কার্যক্রম চালান।
এ সময় এম কে আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের ন্যায্য পানির দাবি নিয়ে বিএনপি লংমার্চসহ আন্দোলন করছে। সরকার যদি আমাদের এ লংমার্চে বাধা দেয় তাহলে জনগণই এর প্রতিরোধ করবে।
তিনি লংমার্চে বাধা না দিতে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।এম কে আনোয়ার বলেন, ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনে যে সরকার গঠিত হয়েছে তা অবৈধ। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখল করে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি অবিলম্বে এ স্বৈরাচার সরকারকে পদত্যাগ করে সকল দলের অংশ গ্রহণের ভিত্তিতে সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান।               

 
 
 
 
 
 

নিউজডেস্ক: সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে একুশে টেলিভিশনের অপরাধ বিষয়ক রিপোর্ট ‘একুশের চোখ’ টিমের ছয় রিপোর্টার-ক্যামেরাম্যানকে আটক করে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
একুশে টিভির রিপোর্টার রুবিনা ইয়াসমিন শীর্ষ নিউজকে জানান, শনিবার সকালে একুশে টেলিভিশনের অপরাধ বিষয়ক রিপোর্টার ইলিয়াস হোসেন ও ক্যামেরাম্যান মনিরুল ইসলাম ‘একুশের চোখ’ এর জন্য বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ ও চিত্রধারণ করতে মিটফোর্ডে যান।

এ সময় বেলা ১১টার দিকে ডাক্তার ও কর্মচারীরা হামলা চালিয়ে জোর পুর্বক ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে এবং সাংবাদিকদের একটি রুমে আটকিয়ে রাখে।
এ খবর পাওয়ার পর একুশে টিভির আরেক রিপোর্টার জুলহাস কবির ও ক্যামেরাম্যান টিটুকে সেখানে পাঠানো হয়। তাদেরকেও আটকে রাখে মিটফোর্ড হাসপাতালের কর্মচারীরা।
এরপর অন্য আরেকজন রিপোর্টার নুরুন্নবী ও ক্যামেরাম্যান রুমিকে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠায় একুশে টিভি। তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর ও মারপিট করে আটকে রাখা হয়।
তবে এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় কোতয়ালি থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিকরা সমঝোতার জন্য একত্রে বসেছেন।
শেষ সংবাদ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৩টায় সাংবাদিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে ।               

 
 
 
 
 
 

নিউইয়র্ক, ১৯ এপ্রিল:
যুক্তরাষ্ট্র সফররত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আগামী ২-৪ বছরে নয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হতে ২০ বছর লাগবে। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউর তাজমহল পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
৭০ বছর আগে সংঘটিত দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখনো মাঝে মধ্যে এই যুদ্ধের বিচারের ট্রায়াল হয়। বাংলাদেশেও যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তদের সাজাও হয়েছে।
সুধীজনের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিমানের ভীত এখনো দুর্বল। এই রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু হতে আরো ২-১ বছর লাগবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা কাঠামো এতোদিনে যেটুকু তৈরি হয়েছে তা অত্যন্ত দুষ্টু, দুর্নীতিপরায়ণ ও অদক্ষ। বিমানবাহিনীর দায়িত্বরত অথবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এটাকে চালায়। তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য উপযুক্তও নয়।
মন্ত্রী বলেন, দুর্বলতা অতিক্রম করতে পারলেই বিমানের নিউইয়র্ক রুট চালু হতে পারে।
বিশ্বব্যাংক থেকে পেনশন পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক রাজনীতিবিদ আছেন যারা তথ্য না জেনে অনেক আবোল-তাবোল কথা বলেন। আমি যদি বিশ্বব্যাংকের পেনশন খাই এটা বিশ্বব্যাংকে খোঁজ নিলেই জানা যেতো।
মতবিনিময় সভার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন সিলেট পৌরসভার সাবেক কমিশনার ও প্যানেল মেয়র আলহাজ ফখরুল ইসলাম খান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত সিলেটের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিউজার্সির প্লেইনস বরোর কাউন্সিলম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরন নবী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন, নিউইয়র্কে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোঃ শামীম আহসান, জ্যামাইকা কমিউনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট তৈয়বুর রহমান হারুন প্রমুখ।               

 
 
 
 
 
 

বার্মিংহাম প্রতিনিধি:
বৃহস্পতিবার ১৭ ই এপ্রিল দুপুরে বার্মিংহামের কভেন্ট্রীরোডস্ত স্টুডিও ওয়ান এ বার্মিংহাম আওয়ামিলীগ এর সভাপতি কবির উদ্দিন এর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম কিসলু এর সঞ্চালনায় শোক সভা অনুস্টিত হয়। এতে কোরআন তেলোয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা  আব্দুর রশীদ।
 শোক সভায় মরহুমের বর্নাট্য জীবনের স্মৃতিচারন করতে গিয়ে  অনেকে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। বক্তারা মরহুমের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে বলেন উনি ছিলেন একজন সদা হাস্যজ্জোল,নির্ভিক ও সাদা মনের মানুষ। সভায় স্মৃতিচারন করেন বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা ইব্রাহিম আলী, আলী ইসমাইল, কমরেড মসুদ আহমেদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামিলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মিছবাহ আহমেদ।এছাড়া ও সভায় উপস্তিত ছিলেন বাংলা প্রেসক্লাব বার্মিংহাম সভাপতি ও বাংলা ভয়েস সম্পাদক মোহাম্মদ মারুফ,  মিডল্যান্ড আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আখমল খান, বার্মিংহাম আওয়ামিলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস শুকুর, প্রচার সম্পাদক নাসির আহমেদ শ্যামল, ফখরুল ইসলাম, এনামুল হক খান নেপা, উদিচি সভাপতি এলাহি হক শেলু, সা: সম্পাদক  সাইফুর রাহমান বাসিক, হবিগঞ্জ সোসাইটি ইউকের সভাপতি মাজেদুল হক মিন্টু, চ্যানেল আই মিডল্যান্ড  চীপ সৈয়দ নাসির আহমেদ, চ্যানেল এস এর বার্মিংহাম প্রতিনিধি রিয়াদ আহাদ, শিখা সম্পাদক মিহির মোহন,  এটিএন বাংলার  বার্মিংহাম প্রতিনিধি উবায়দুল কবির খোকন, সহ যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংঘঠনের নেত্রিবৃন্দ। উল্লেখ্য মরহুম আব্দুস সালাম সেজান জনাব আলী মেমোরিয়াল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ছিলেন।           

 
 
 
 
যোগাযোগ করুন..
01712 247 900

dainiksylhet@yahoo.com