Home Home Page Rank NTV ONLINE ETV ONLINE BANGLA  VISION ONLINE CHANEL I ONLINE EKATTOR TV ONLINE
০১-১১-২০১৪ শনিবার

 দৈনিক সিলেট ডটকম সিলেট বিভাগের সর্বাধিক জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল-আমাদের সাথে থাকুন, নিজেকে আপডেট রাখুন...   

 
 
এই জনপদ
 
 
 
 
 

সিলেট ৩১ অক্টোবর: কলকাতায় আচার্য্য মেমোরিয়াল ট্রফি-২০১৪ বিসিবি একাদশের টিম ম্যানেজার দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করায় বিসিবি পরিচালক ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলকে ব্যাপক সংবর্ধনা দিয়েছে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ।

তিনি শুক্রবার সড়কপথে ঢাকা থেকে সিলেট এসে পৌঁছলে নগরীর হুমায়ুন রশীদ চত্বরে এক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এসময় সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রাহাত তরফদারের নেতৃত্বে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা আচার্য্য মেমোরিয়াল ট্রফিতে বিসিবি একাদশের নেতৃত্ব দেওয়ায় তাঁর প্রশংসনীয় কর্মদক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সিলেটের ক্রীড়ামোদীদের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানান।

সংবর্ধিত অতিথি বিসিবি পরিচালক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি ভবিষ্যতে সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। ভবিষ্যতে সিলেটে আরো বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তাঁর আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন।

সংবর্ধনা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রাহাত তরফদার, সহ-সভাপতি মঈনুল ইসলাম, একরামুল হাসান শিরু, আব্দুল হাই আল হাদী, জিয়াউল হক জিয়া, এড. আজিজুর রহমান সুমন, শাহ্ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, আশরাফ সিদ্দিকী, লায়েক আহমদ জিকু, প্রচার সম্পাদক ফয়েজ উদ্দিন পলাশ, অর্থ সম্পাদক বদরুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক মো. ইমরান চৌধুরী, উপ-সম্পাদক ইমদাদুল হক জায়েদ, সাইদুল হক সায়িদ, সহ-সম্পাদক আবুল হোসেন, জুবায়ের আহমদ, সদস্য- মামুনুর রশিদ মামুন, রিয়াজুল ইসলাম, সাফায়েত খান তন্ময়, শহিদুল হক রাসেল, মির্জা হামিদ অভি, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা এহিয়া আহমদ সুমন, প্রকৌশলী মোবাশ্বের হাসান রাব্বি, সাবের আহমদ, আলী বাহার, ফুজায়েল আহমদ জনি, রানা আহমেদ শিপলু, ১৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি শোয়েব আহমেদ শানু, ৪নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ফারহান হোসেন, ল’ কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক দিবাকর চন্দ্র দাস, শাহ্ জুনেদ আলী, রেজাউল হক রেজা, জাহাঙ্গীর আলম, কামরুল হাসান হিমেল, আবুল কালাম আজাদ তুহিন, রাব্বি আহমদ তানভীর, রবি হাসান শুভ, আকরাম আহমদ, মোহন আহমদ মিলন, নাজিম খান, রবিউল ইসলাম জায়েদ, রাজীব আহমদ, জুবেদ আহমদ, সানি আহমদ, সামাদ আহমদ, সালিম আহমদ, সৌরভ দেব পিনাক, মুহিন চৌধুরী রনি, লিজন আহমদ, আরিফ রহমান শিহাব, মো. মারুফ আহমদ, জামিল আহমদ, তন্ময় রহমান, শিহাব উদ্দিন, এমএ মোতালেব, দুলাল আহমদ, শাহ্ রাহাত, ডেভিড মনসুর, জিলু পাল প্রমুখ।

 
 
 
 
 
 
 

সিলেট, ৩১ অক্টোবর:
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ বলেছেন, বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামের দুর্যোগ চলছে। এই দূর্যোগ মোকাবিলায় তাগোতের চেয়ে যোগ্যতার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ছাত্র মজলিসের কাজ কে বেগবান করতে হবে। তিনি  শুক্রবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস সিলেট মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে মজলিস মিলনায়তনে আয়োজিত প্রাক্তন ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
পশ্চিম জেলা ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহা. সুহাইল আহমদের সভাপতিত্বে ও পূর্ব জেলা সভাপতি সাইদুল ইসলাম সাঈদ-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ও বায়তুলমাল সম্পাদক মুহা. আব্দুর রহিম সাঈদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর শাখার সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা জাহিদ উদ্দীন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান আলম, সিলেট জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতিকুর রহমান, সাবেক কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আরিফুল হক ইদ্রিস।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক পূর্ব জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব, হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি সাইদুর রহমান ছানি, পশ্চিম জেলা প্রশিক্ষণ সম্পাদক আল মাহমুদ আতিক, বায়তুলমাল সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জামেয়া মাদানিয়া শাখার সভাপতি জুবায়ের আহমদ, পূর্ব জেলা বায়তুলমাল সম্পাদক মোঃ নোমান আহমদ, ফেঞ্চুগঞ্জ থানা সভাপতি আজিম উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, সাইফুল আলম, হাবিবুর রহমান জাহান। বিজ্ঞপ্তি
               

 
 
 
 
 
 
 

ছাতক প্রতিনিধিঃ   
ছাতকে সহস্রাধিক রোগীকে ওষুধসহ ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার দিনব্যাপী কালারুকা বাজারে চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায়, কালারুকা বাজারস্থ লতিফিয়া ইসলামী যুব ও সমাজ কল্যাণ পরিষদের ব্যবস্থাপনায় ও সন্ধানী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ইউনিটের সহযোগিতায় সহস্রাধিক রোগীকে ওষুধসহ ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সকালে চিকিৎসা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন, সন্ধানী সিলেটের সভাপতি শাহেদ হোসেন ও পরিষদের সভাপতি আব্দুল মুমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ছাতকের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, লন্ডন প্রবাসী ছায়াদ মিয়া, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জিএম আজম, পরিষদের উপদেষ্টা কাজি মাওলানা আব্দুস শাকুর, ডাঃ লিয়াকত আলী, রইছ উদ্দিন রানা, সেক্রেটারী হোসাইন মোহাম্মদ আলাল, সহ-সভাপতি আবুল ফজল মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, পরিষদের সদস্য লিটন আহমদ, আলী হোসেন, তোফায়েল আহমদ মিনার, কামরান আহমদ, হাফেজ হেলাল আহমদ, হাফেজ আঙ্গুর মিয়া, নুর আলম, শাহাব উদ্দিন, মুজিবুর রহমান, হেলাল আহমদ, মুহিবুর রহমান, ছায়েদ মিয়া, হাসান আহমদ, শরীফ হোসেন, ফিরোজ মিয়া, সুহেল মিয়া, রাকিব আলী, সুমন মিয়া প্রমুখ। চিকিৎসা কার্যক্রমে সন্ধানী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ইউনিটের উপদেষ্টা ডাঃ জাবেদ আহমদ, ডাঃ প্রত্যয়, ডাঃ মাশুদ, ডাঃ লোপা, ডাঃ এ্যানি, ডাঃ শ্রাবনী, সভাপতি ডাঃ শাহেদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ নাতানিয়া তাবনী, সহ-সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আরাফাত ইসলাম শুভ ও অন্যান্য কর্মীরা অংশ গ্রহন করেন।
               

 
 
 
 
 
 
 

সামায়ুন আহমদ, তাহিরপুর প্রতিনিধি:
তাহিরপুরে মোটর সাইকেল চালক শামীম মিয়ার খূনীদের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও ২ ঘন্টা কর্মবিরতি করেছে তাহিরপুর মোটর সাইকেল চালক সমিতি। শুক্রবার দুপুর ২ টা হতে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চলে। কর্ম বিরতি চলাকালীন সময়ে  মোটর সাইকেল চালক সমিতির একটি বিক্ষোভ মিছিল তাহিরপুর উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে। তাহিরপুর থানা পুলিশ ও শামীম মিয়ার পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, এ বছরের গত ৯ মার্চ  মধ্য তাহিরপুর গ্রামের আবুল হোসেন এর পুত্র মোটর সাইকেল চালক শামীম মিয়া তার ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলে আরোহী নিয়ে তাহিরপুর থেকে সুনামগঞ্জ গেলে পরদিন আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় তার বাবা আবুল হোসেন ছেলেকে অনেক খুঁজাখুঁজির পর না পেয়ে তাহিরপুর থানায় গত ১১ মাচ-১৪ইং তারিখে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। থানায় সাধারণ ডায়েরির ৩ মাস পর গত ১৩ জুন সুনামগঞ্জ জেলার রঙ্গাচর ইউনিয়নের আদার বাজার থেকে নিখোঁজ মোটর সাইকেল চালক শামীম মিয়া ব্যাতিত তার মোটর সাইকেল সহ জাহিদুল আলম (২০) কে তাহিরপুর থানা পুলিশ উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর জাহিদুল আলম থানা পুলিশ কে জানায়, সে একই ইউনিয়নের রঙ্গাচর চাতলপার গ্রামের আব্দুর রউফ এর নিকট থেকে নগদ অর্থ দিয়ে গাড়িটি ক্রয় করে। এ ঘটনায় আটক  জাহিদুল আলম কে থানা পুলিশ জেল হাজতে প্রেরন করে । পরবর্তীতে জাহিদুল আলম রিপন  এর পরিবার আব্দুর রউফকে চাপ দিলে গত ১৯ অক্টোবর আব্দুর রউফ স্বেচ্ছায় সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালতে আত্মসমর্পন করে। এ ঘটনায় গত ২৭ অক্টোবর তাহিরপুর থানা পুলিশ  ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আব্দুর রউফ কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাহিরপুর থানায়  নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে  আব্দুর রউফ মোটর সাইকেল চালক শামীম মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার কথা স্বীকার করে।  কাংলার হাওরে মাটি খুড়ে তার লাশ গুম করে বর্তমানে হাওরটি পানিতে নিমজ্জিত আছে বলেও সে জানায়। মোটর সাইকেল চালক  মিয়া হোসেন, রুবেল মিয়া,আব্দুস শহীদ, টিটন মিয়া ,নুরে আলম,আল আমীন গনি,তুহিন মিয়া,শিবলী মিয়া,মতিউর রহমান,বুলবুল সহ শতাধিক মোটর সাইকেল চালক জানান,শামীম মিয়ার খূনীদের বিচারের দাবীতে আমরা আজ ২ ঘন্টা কর্মবিরতি এবং একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহ আলম ভূইয়া বলেন, শামীম হত্যার প্রথম আসামীকে আমারা কৌশলে ধরেছি,সে তার জবানবন্ধীতে খুনের কথা স্বীকার করেছে এবং তার সহযোগীদের নামও বলেছে। তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো:আনিছুর রহমান খান বলেন, মোটর সাইকেল চালক শামীম মিয়ার হত্যাকারী ও সহযোগীদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
               

 
 
 
 
 
 
 

সিলেট, ৩১ অক্টোবর:
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  শুক্রবার সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল সিলেট জেলা ও মহানগর জেএসডির কার্যালয়ে জাতীয় দলীয় পতাকা উত্তোলন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দলের যেসব নেতাকর্মী আত্মাহুতি দিয়েছেন এবং পরলোকগমন করেছেন  তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন এবং শহীদ মিনারে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তাগণ দ্বি-দলীয় অপরাজনীতির বিরুদ্ধে ৩য় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠা, দেশে ৯ টি প্রদেশ স্থাপন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করার আন্দোলন সংগ্রামে সর্বস্তরের জনসাধারণকে অংশগ্রহণ করার আহবান জানিয়েছেন। তারা বলেন, সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য জেএসডির আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা ও মহানগর জেএসডি নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে-মনির উদ্দিন মাস্টার, আবর মিয়া পীর, চৌধুরী শাহেদ কামাল টিটো, মোফাজ্জল করিম চৌধুরী রাসেল, সাংবাদিক চৌধুরী দেলওয়ার হোসেন জিলন, মোশতাক আহমদ বাবু, হাবিবুল ইসলাম জুয়েল, মতিন মিয়া, উকিল আলী, খলিলুর রহমান, জেএসডি নেত্রী স্বপ্না খাতুন, জেবিন আক্তার, ছাত্রনেতা জিল্লুর রহমান, মো: জয়, সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।




               

 
 
 
 
 
 
 

সিলেট, ৩১ অক্টোবর:
সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক সংগ্রাম সিংহকে হুমকিদাতাদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার ও পরিবেশ সাংবাদিক সোসাইটি-–মাপসাস সিলেট বিভাগীয় কমিটি ।  শুক্রবার বিকালে মাপসাসের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় বক্তারা দাবি করে বলেন, সংগ্রাম সিংহকে হুমকিদাতাদের অভিলম্বে গ্রেফতার করা না হলে মাপসাসের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে । সভায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার ও পরিবেশ সাংবাদিক সোসাইটি –মাপসাস সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি শেখ মো: লুৎফুর রহমান,ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি শিহাব আহমদ,সহ-সভাপতি সুলতান সুমন,দারা খান,প্রচার সম্পাদক ফরহাদ এম সাকুর,অর্থ সম্পাদক কাওছার আহমদ খছরু,তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ আহমদ,সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক ম্পাদক সাদ্দাম হোসেন খান,দপ্তর সম্পাদক ছাদেকুর রহমান মিছবা,সহ দপ্তর সম্পাদক  কামাল আহমদ,সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আবুল হোসেন,শাহনুর আহমদ শাহান  প্রমূখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
               

 
 
 
 
 
 
 

নবীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ আত্মশক্তিতে বলিয়ান ব্যক্তি কখনও দরিদ্র থাকতে পারে না, এই শ্লোগানে নবীগঞ্জ উপজেলার ১০নং দেবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে গত ২৭ শে আক্টোবর থেকে ৩০ আক্টোবর  অনুষ্ঠিত হয়ে গেল  দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, বাংলাদেশ হবিগঞ্জ জেলা শাখার উদ্দ্যেগে ব্র্যাকের সহযোগিতায় ৪ দিন ব্যাপি ২১৭১ তম উজ্জ্বীবক প্রশিক্ষণ কোর্স। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করণ ও এম.ডি,জি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এ ইউনিয়ন পরিষদ এর কার্যকর ভ’মিকা স্থায়ী কমিটি সচলীকরণ, উন্মুক্ত বাজেট প্রনয়ণ ও প্রকাশ, জনগনের অংশগ্রহনের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এর মাধ্যমে প্রতিটি জনগন কে আত্বপ্রত্যয়ী, আত্ববিশ্বাসী ও আতœশক্তিতে বলিয়ান হয়ে উঠার কৌশল শিখনের মধ্য দিয়ে এর সমাপনি দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন পুরুস্কার প্রাপ্ত ইউ.পি চেয়ারম্যান এডভোকেট মো: জাবিদ আলী । প্রশিক্ষণ শেষে ৩৬ জন প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরন করা হয়। দেশ ও জাতি গঠনে আগামী প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যত গড়ার লক্ষে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, বাংলাদেশ ও ব্র্যাকের এই যৌথ প্রয়াসকে স্বাগত জানান চেয়ারম্যান ,তার সমাপনী বক্তব্যে। তিনি আরো বলেন এই প্রকল্পের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রুপান্তরিত করার কৌশল।সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, হবিগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী খান মুহা: মুজাহীদ ইবনে হাবীব, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম,এ আহমদ আজাদ,ইউনিয়ন সমন্বয়কারী  শাহ্ গুল আহমেদ কাজল।সহায়ক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মো: হাছান আলী ও মো: জালাল উদ্দিন রুমি।
               

 
 
 
 
 
 
 

কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ:
জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে জামায়াত শিবিরের ডাকা ৩ দিনব্যাপী হরতালের প্রতিবাদে আলাদাভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ,ছাত্রলীগ সহ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মতিউর রহমানের নেতৃত্বে শহরের রমিজ বিপণীস্থ আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি হরতাল বিরোধী মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মতিউর রহমান,সিনিয়র সহ সভাপতি এডভোকেট আপ্তাব উদ্দিন,সহসভাপতি এডভোকেট সুরেশ দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এডভোকেট হায়দার চৌধুরী লিটন,জেলা কৃষকলীগের সভাপতি সুবীর তালুকদার বাপ্টু,সাধারন সম্পাদক করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল,জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি সিরাজুর রহমান, আওয়ামীলীগ নেতা ও পিপি মোঃ শফিকুল ইসলাম,শংকর দাস,অমল কর,জুনেদ আহমেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি রমা দাস,সহ সভাপতি নুরুল ইসলাম বজলু,সাধারন সম্পাদক জুবায়ের আহমদ অপু,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রনজিৎ চৌধুরী রাজন,সদর থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি উজ্জল ও সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফরহাদ।
অপরদিকে দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে শহরের উকিলপাড়াস্থ ছাত্রলেিগর কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিণœ রাস্তা প্রদক্ষিন শেষে আওয়ামীলীগের সমাবেশে এসে যোগ দেয়। মিছিলে এ সময় উপস্থিত ছিলেন,জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল লেইছ রিজেন,উপ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক তাহের আহমদ মন্টি,জেলা ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান জিসান রেজা, সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম চপল,সাজিদুর রহমান মুন্না,ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক প্রভাংশু তালুকদার বাপ্টু,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন,দপ্তর সম্পাদক আখলাকুজ্জামান তুরণ,সহ সম্পাদক তাফুসরুল ইসলাম,,সদস্য আবুল বাশার ইমন,স্বপন রড়–য়া,সদর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা তৌফিক ইসলাম,প্রসেনজিৎ দেব প্রজিত,হোসাইন আহমদ হিমেল প্রমুখ । প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমান বলেছেন, ৪৩ বছর পরে হলেও আলবদর বাহিনীর প্রধান মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায়ের মাধ্যমে দেশের জনগনের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। জনগনের ভোটে নির্বাচিত শেখ হাসিনার সরকার জনগনের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্র“তি একে একে বাস্তবায়ন করে চলেছে। যে যখন সার্বিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বাচাঁনোর জন্য অহেতুক ইস্যুবিহীন হরতাল দিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে বাধাঁগ্রস্থ করছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি বিএনপি জামায়াতের হরতাল সহ যেকোন অপতৎপরতা প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মীসহ জনগনকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।
               

 
 
 
 
 
 
 

এ,জে লাভলু, বড়লেখা:
জামায়াতের আমির মতিউর রহমান
নিজামীর ফাঁসির রায়ের
প্রতিবাদে জামায়াতের ডাকা ৭২
ঘন্টার হরতালের প্রথম
দিনে বড়লেখায়
মাঠে নেই জামায়াত-শিবির
নেতা কর্মী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত
উপজেলার কোথাও হরতালের
সমর্থনে মিছিল, মিটিং, সমাবেশ
করেনি জামায়াত-শিবির।
প্রতিদিনের মতো আজকেও অফিস,
আদালত, ব্যাংক,
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছ।
তবে বড়লেখা থেকে দুরপাল্লার
যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও পৌর
শহরে সিএনজি, ভ্যান, রিকশা,
চলতে দেখা গেছে।
সকাল থেকে দোকানপাট
খোলা রয়েছ। বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল হাসেম দৈনিক
সিলেটেককে জানান, নাশকতা এড়াতে পৌর
শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন
গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন
করা হয়েছে। এদিকে বর্ডার
গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি\'র)
পাশাপাশি র্যাপিড
অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাবের) টহল
অব্যাহত রয়েছ।               

 
 
 
 
 
 
 

ছাতক প্রতিনিধিঃ      
ছাতকে আনজুমানে আল-ইসলাহ উপজেলা উত্তর শাখার কমিটি গঠন করা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার বিকেলে ছাতক জালালিয়া আলিম মাদ্রাসা হলরুমে ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মাওলানা কামরুজ্জামানকে সভাপতি, মাওলানা এমএ মতিনকে সাধারণ সম্পাদক ও মাওলানা সামছুল হুদাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২১সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সহ-সভাপতি মাওলানা জামাল উদ্দিন, মাওলানা সাইফুল আলম, হাফেজ ফখরুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক ক্বারী আব্দুল আলীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রেদওয়ান হোসেন শাহনুর, প্রচার সম্পাদক হাফেজ আবুল লেইছ, সহ-প্রচার সম্পাদক ক্বারী রেজাউল করিম, প্রশিক্ষন সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল করিম, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, পাঠাগার সম্পাদক আব্দুল জব্বার, অফিস সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাবলু, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ হেলাল আহমদ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ক্বারী আমির আলী, নির্বাহী সদস্য মাস্টার আমির আলী, গিয়াস উদ্দিন, ক্বারী নাজিম উাদ্দিন, ক্বারী বুরহান উদ্দিন। নির্বাচন পরিচালনা করেন, সুনামগঞ্জ জেলা আল-ইসলাহ’র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল আহাদ, সাধারণ সম্পাদক মাওলান আলী আজগর খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহবুবুর রহমান তাজুল, সদস্য মাওলানা আব্দুস সালাম, মাওলান কবির আহমদ।
               

 
 
 
জনমত জরিপ

তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ করে বিএনপি কি রাজনৈতিক ভাবে লাভমান হয়েছে?

 
হ্যাঁ না
 
 

ফলাফল দেখুন

 
 

সিলেট, ৩১ অক্টোবর:
আবারো ৭ দফা দাবিতে পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে সিলেট বিভাগ পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম কমিটি। আগামী ৬ নভেম্বর থেকে পুরো বিভাগে অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। সিলেট সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম আহমদ ফলিক বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। অতীতের মতো ন্যায়সংগত দাবি আদায়ে আমরা অবিচল থাকবো। ৭ দফা দাবিগুলো হচ্ছে, ঢালাওভাবে সিএনজি ফোরস্ট্রোক ও ইমা-লেগুনার নতুন রোড পারমিট ইস্যু এবং অবৈধ ইমা-লেগুনা ও ফোরস্ট্রোক চলাচল বন্ধ, সামনের সিটে যাত্রী না বসিয়ে বিধি অনুযায়ী সিলেটে চলাচলরত ফোরস্ট্রোক সমূহে নির্ধারিত মাত্রায় যাত্রী পরিবহন, গ্রিলের বেস্টনি দিয়ে প্রতিটি ফোরস্ট্রোক চালকের নিরাপত্তা বিধান, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মহাসড়কে ত্রি-হুইলার এবং নছিমন-করিমন-শেল ইঞ্জিন চালিত ভটভটি ও ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকসহ অবৈধ গাড়ি চলাচল বন্ধ, বেআইনিভাবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ওপর পুলিশি নিযার্তন ও গাড়ি রিক্যুইজিশনের নামে অহেতুক হয়রানি বন্ধ করা।

 
 
 
 

সিলেট ৩১ অক্টোবর:
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এবার জিডিপি বাড়বে। চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)৬ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হবে’ বিশ্বব্যাংকের এমন প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘তাদের প্রতিবেদন সবসময় সঠিক হয় না। কখনো এরচেয়ে (প্রতিবেদন) বেশি হয়। এবার জিডিপি বাড়বে।’ এছাড়া চলতি অর্থবছরে মূদ্রাস্ফীতি ৭ এর কম হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে সিলেটে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সমালোচনা শুধু দেশেই হয়। বিদেশে বাংলাদেশের সমালোচনা হয় না। সেখানে বাংলাদেশ ‘দ্য হিরো অব দি ওয়ার্ল্ড’। সেখানে গেলে সমাদর পাওয়া যায়। লোকদের সাথে কথা বলার আনন্দ আছে।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশিরা আমাদের দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ নিতে চায়। এমনকি ‘যুক্তরাষ্ট্র’, যারা আমাদের তেমন পছন্দ করে না; সকলেই আমাদের দেশের উন্নয়নের সাথী হয়ে চায়।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু। শুধুমাত্র পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন বিষয়ে কিছুটা সমস্যা হয়েছিলো। এটা অনাকাঙ্খিত। তবে এ বিষয়টি শেষ হয়ে গেছে। এখন এ নিয়ে আর কেউ কথা বলে না।
মন্ত্রী বলেন, ‘গ্লোবাল আউটপুট তেমন ভাল না। ইউরোপের অর্থনৈতিক অবস্থাও তেমন ভাল নেই। ইউরোপ আমাদের রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার। তাই এ নিয়ে আমাদের চিন্তার বিষয় আছে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা বেশ দক্ষ। আমরা বিকল্প হিসেবে বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেমন চায়না, আফ্রিকা, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছি। যা আমরা আগে করতাম না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘গত ৫ বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আমাদের দেশে বিনিয়োগ ভাল হয়নি। যেখানে ৩২ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন সেখানে আমাদের ২৫ থেকে ২৮ শতাংশ বিনিয়োগ হয়েছে। আমাদের দেশের যথেষ্ট অর্থ ব্যাংকে অলস পড়ে আছে। সবধরণের সুযোগ সুবিধা থাকা সত্তে¡ও এই টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে না। ফলে আমরা পিছিয়ে রয়েছি।’

   

 
 
 

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, লন্ডন থেকে :
এক. ১৯৬৮-১৯৭১ সাল-বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়। একদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের, আলোচনার সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে অন্যান্য সকল নেতার নাম উহ্য রাখা হলো) সংখ্যাগরিষ্ঠ সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে উজ্জীবিত ও আন্দোলনরত। এ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অবিসংবাদিত নেতার আসনে অধিষ্ঠিত তরুণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, একইসঙ্গে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত বিরামহীনভাবে বঙ্গবন্ধু চষে বেড়াচ্ছেন মানুষকে স্বাধীনতা যুদ্ধের মন্ত্রে উজ্জীবিত করতে। অপরদিকে অধ্যাপক গোলাম আযম, আব্বাস আলী খান গংদের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী (পূর্বপাকিস্তান) অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কার্যত বাঙালির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো। এরমধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে অনেক জল প্রবাহিত হয়েছে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনার কালো-স্ফটিকের ন্যায় সাদা জল রক্তাভ আকার ধারণ করেছে। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে একটা মিল লক্ষ্য করা গেছে, তখনকার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং জামায়াত ইসলামী শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যকার সংযোগ স্থাপন বা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মাত্রা অব্যাহত থাকার যথেষ্ট ঐতিহাসিক তথ্যের উপস্থিতিই প্রমাণ করেছে, উভয় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে একধরণের ইউরোপিয়ান প্রেম বিরাজমান ছিলো। যদিও দুই দলের তৃণমূল এবং মধ্যম সারির নেতা কর্মীদের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক সবসময়ই বিরাজমান। সে কারণে আমরা দেখি পরস্পর বিরোধী আদর্শের এ দুই দলের মধ্যে অনেক রক্তারক্তি এবং খুন-খারাবির মধ্যে উভয় দলের বহু নেতা কর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

স্বাধীনতার পর সেই অম্ল মধুর আর দা-কুমড়ার সম্পর্কের মধ্যেও চরম শত্রুভাবাপন্ন দুটি দলের হাই কমান্ডের মধ্যে এক ধরনের অদৃশ্য ও অস্পৃশ্য লেবার অব লাভ ও এক প্রেমের সম্পর্ক রয়ে যায়, যার অবিসংবাদিত ফল হিসেবে সাধারণ ক্ষমার আওতায় এ দলটি বিভিন্ন নামে বেনামে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতিতে ভিড়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

১৯৭৫ এর রাজনৈতিক এবং ইতিহাসের জঘন্যতম ট্র্যাজিক পরিণতির পরে সেই অদৃশ্য ও অস্পৃশ্য প্রেমে ভাটার টান পড়ে। কিন্তু সেটা ছিলো সাময়িক।

দুই. রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহে দীর্ঘ সময় পরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াত তত্ত্বাবধায়ক নামক এক সরকারের রূপরেখার যুগপৎ আন্দোলনে একে অন্যের সহযোগী হয়ে যায়। তারও নেপথ্যে রয়েছিলো এক চমকপ্রদ এবং বাস্তব তথ্যভিত্তিক কাহিনী। প্রয়াত আম্মা জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যখন গণআদালত গঠিত হয়ে বাংলাদেশের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলেই গোলাম আযমের বিচারের দাবিতে এক মঞ্চে এসে সোচ্চার হয়েছিলেন, তখনো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাহানারা ইমামের সাক্ষাতের শলাপরামর্শের পরেই সেটা দিনের আলোতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পেছনে রেখে আম্মা জাহানারা ইমামকে সামনে নিয়ে ড. কামালসহ সকল স্তরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, প্রগতিশীল ছাত্র, যুব, শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে সমবেত হয়েছিলেন। এর বাস্তব প্রমাণের জন্য একটি সত্য ঘটনা এখানে উল্লেখ না করলেই নয়। ওই সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন আজকের মন্ত্রী (বর্তমানে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য) তোফায়েল আহমেদ। তোফায়েল আহমেদ সেদিন শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থিওরি দিলেন, ’৭৫ এর পর দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে আওয়ামী লীগ- আওয়ামী লীগকে যদি ক্ষমতায় ফিরে আসতে হয়, তাহলে একদিকে যেমন জামায়াতের সঙ্গে আপোষ করতে হবে, অপরদিকে জামায়াতের ভোটকে ভাগ করতে হবে। তোফায়েল আহমেদের ওই থিওরি শেখ হাসিনার মনঃপুত হয়েছিলো এবং কার্যত শেখ হাসিনা তাই করেছিলেন। এ ব্যাপারে আসছি একটু পরেই।

ওই সময় সাংবাদিক শফিক রেহমান আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক, মুক্তিযুদ্ধের দল হিসেবে। শফিক রেহমান তোফায়েল আহমেদের এ থিওরিতে অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে যায়যায়দিনে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে কলাম লিখেছিলেন। সেদিন যারা সেই ম্যাগাজিনে শফিক রেহমানের কলাম পড়েছিলেন, তারা সকলেই অবগত আছেন শফিক রেহমান তোফায়েলের সমালোচনা করতে গিয়ে লিখেছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে তোফায়েল কেমন করে শেখ হাসিনাকে এমন থিওরি দিতে পারলেন। শফিক রেহমান সমালোচনার ঝড় তুললেও শেখ হাসিনা কিন্তু তোফায়েল কর্তৃক জামায়াত প্রেম এবং বিরহ প্রেমের থিওরি বেশ দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগিয়েছিলেন। জামায়াতকে নিয়ে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছিলো। একইসঙ্গে জাতীয় বেঈমান উপাধি লাভ করেও নির্বাচনে গিয়েছিলো। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সেই গোপন সমঝোতা এবং গোপন প্রেমের সম্পর্ক কিন্তু অটুট ছিলো, প্রেমের সম্পর্কে ভাটার টানতো থাকবেই। জোয়ারের তীব্রতার উপর সেই ভাটার টান উঠা নামা করেছিলো।

তিন. ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তার আগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের আরেক সদস্য আমির হোসেন আমু শেখ হাসিনাকে নির্বাচনী পোস্টারে জামায়াতের স্টাইলে সকল ক্ষমতার মালিক সর্বশক্তিমান আল্লাহ, নৌকার মালিক আল্লাহ ইত্যাদি শ্লোগান এবং বাক্য অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন।

তিনি শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের সেক্যুলার রাজনীতিকে চালু রাখতে হলে, ইসলাম ধর্মের বাইরে বা বিরোধিতা করে সম্ভব নয়। শেখ হাসিনা আমির হোসেন আমুর এ যুক্তি মেনে নিয়েছিলেন এবং আমুর দেওয়া সে ফর্মুলার আলোকে হাতে তসবিহ, মাথায় ঘোমটা দিয়ে নির্বাচনী পোস্টার, পোস্টারে সর্বশক্তিমান আল্লাহ, আর নৌকার মালিক আল্লাহ শ্লোগানে সারা বাংলাদেশে জামায়াতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জোয়ার তুলেছিলেন। যার ফলে আওয়ামী লীগ ১৯৭৫ এর পর প্রথম ক্ষমতায় আসে।  

চার. ওই সময় আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিলো। প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদ স্বাধীনতার পরে দেওবন্দী বলে পরিচিত সকল ইসলামিক হুজুর, নেতা, মাদ্রাসা, বিশেষ করে সিলেটের আলেম বর্ণভী হুজুর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার বড় হুজুর, সিলেটের গহর পুরী মোহাদ্দিস, বায়তুল মোকাররমের সাবেক খতিব (সিলেটের), চট্টগ্রামের শফী হুজুর, ঢাকার আল্লামা আজিজুল হক (শায়খুল হাদীস) এদের সকলের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুবাদে এবং তিনি নিজে দেওবন্দপন্থী হওয়াতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে এ দেওবন্দপন্থীদের সঙ্গে বিশেষ লিঙ্ক তৈরি করেছিলেন। ’৯৬ এর সময়ে শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায়, তখনও আব্দুস সামাদ আজাদ এ দেওবন্দপন্থী বৃহৎ ভোট ব্যাংক আওয়ামী লীগের পক্ষেই ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগের জন্য মাঝে মধ্যে একটু রাজনৈতিক উত্তেজনা ছাড়া খুব একটা বেদনার কারণ হয়ে দেখা দেয়নি। আব্দুস সামাদ আজাদ ছিলেন সেই মাস্টার মাইন্ডের অন্যতম, যা ভারতীয় দেওবন্দ লবি এবং কংগ্রেসের হয়ে কাজ করতেন সফলভাবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনে আরেকটি মজার তথ্য জানিয়ে রাখি। তখনকার সময়ে সিলেটের জামায়াতের অন্যতম প্রভাবশালী এক নেতা ডা. শফিকুর রহমান, আজকের কেন্দ্রীয় নেতা- তিনি জাসদ রাজনীতির ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছেন জামায়াতে। তাকে আব্দুস সামাদ আজাদ জামায়াতের সঙ্গে লিয়াজো কমিটির আলোচনার একপর্যায়ে ডা. শফিককে প্লেনে করে সিলেট থেকে জরুরিভিত্তিতে ঢাকায় এনেছিলেন।

রাজনৈতিক হাইথটের এ সম্পর্কিত  নির্দেশ করে কত প্রয়োজনীয় এবং আত্মিক সম্পর্ক জামায়াতের সঙ্গে ছিলো সেদিনকার ম্যানেজ মাস্টার আব্দুস সামাদি আজাদের। আবার সিলেটের খেলাফত মজলিসের নেতা হাবিবুর রহমান বুলবুলি বরাবর জামায়াত বিরোধী হলেও আব্দুস সামাদ আজাদের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের সুবাদে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে দুই দুই বার বিপুল ভোটে পাশ করানোর ক্ষেত্রে জামায়াত আর হাবিবুর রহমান বুলবুলির অতি সখ্যতা এক্ষেত্রে যে বাধা হয়ে দেখা দেয়নি, সেটা আব্দুস সামাদ আজাদ ও   বুলবুলি দুজনেই জানেন। একই সূত্রে হাবিবুর রহমান বুলবুলি কখনো মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরোধী নন। ১/১১ এর আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সেই লিয়াজোর সুবাদে হাবিবুর রহমান বুলবুলিদের মধ্যে চুক্তি হয়েছিলো, যা পত্র পত্রিকায় এসেছিলো। ওই সময় শেখ হাসিনা পাওয়ার গেইম খেলতে গিয়ে হবিগঞ্জে আজকের মন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদকে পর্যন্ত বলি দিয়ে খেলাফত মজলিসকে ওই আসন ছেড়ে দিয়েছিলেন সমঝোতার শর্ত মোতাবেক। বিএনপিও তাই করেছিলো।

আরেকটি তথ্য হলো-ইসলামিয়া কলেজে একই সঙ্গে গোলাম আযম এবং আব্দুস সামাদ আজাদ পড়া লেখা করতেন এবং দুজনই একই সঙ্গে ৫২ সালের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। সেখান থেকে দু’জনের যে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো-যাতে রাজনীতির ময়দানে বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে ৯৬ সাল পর্যন্ত হাসিনার সরকারের সঙ্গে দুই বিপরীত মেরুর বাসিন্দা হয়েও দুটি দলের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে ছিলো বোঝাপড়া ও সমঝোতার রাজনীতি। ঐতিহাসিকভাবেই, যাকে আমরা কিশোর কুমারের গানের কথায় বলতে পারি ভালোবাসা করেছ আমায় ভিখারি...।

আব্দুস সামাদ আজাদের প্রয়াতকালে এ সমঝোতার মাত্রায় ভাটার টান পড়েছিলো-সেটা বিগত ২০০৮ থেকে ২০১২/১৩ সাল পর্যন্ত আমরা কিছুটা লক্ষ্য করেছি।  উপরে উল্লেখিত ৩ ও ৪ এর এ বক্তব্য বিশেষভাবে এখানে প্রণিধানযোগ্য-এবং এ দুই বিষয়ে আসছি আরো একটু পরে। তার আগে দেখে নেই আরো একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, আর তাহলো- সম্প্রতি ড. পিয়াস করিমের মৃত্যু নিয়ে এখনকার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ড. পিয়াস করিমকে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট সাফাই-সেটা যেন কোথায় এক অন্যরকম টেস্ট এক খেলা। শেখ হাসিনা হয়তো এখানে একটা টেস্ট কেস হিসেবে আনিসুল হককে ছেড়ে দিয়েছেন। মজার ব্যাপার হলো, বড় বড় ক্রিমিনাল কেস ছাড়া আনিসুল হকের কিন্তু যুদ্ধাপরাধ মামলা লড়ার কোন রেকর্ড নেই। বরং ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ  কিছুটা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে নিয়েছিলেন। শুরুতে যখন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল করে টিম সাজানো হয়েছিলো-তখন আনিসুল হক এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, তিনি দায়িত্ব নিতে চাননা, কারণ তার মায়ের নির্দেশ আছে। এখনতো আনিসুল হক পুরো টিমের ম্যানেজার একজন মন্ত্রী হিসেবে। প্রশ্ন জাগে তখন আর এখনকার মধ্যে কি মায়ের বারণ বাধা হয়না? ফেসবুকে তিনজন ব্যক্তি স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনাল সক্রিয় থাকা অবস্থায়, যখন ব্যারিস্টার শফিক মন্ত্রী তখন আনিসুল হক বড় বড় শিবির নেতাদের জামিনের ওকালতি করেছিলেন। প্রফেশনালিজম আর আজকের প্রফেশনালিজম- পার্থক্য টানতে কষ্ট হয় বৈকি?

পাঁচ. বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংক হলো একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ব্যাংক তাতে সন্দেহ নেই। এ ইসলামি ব্যাংকের পরিচালক, পর্ষদ, সবাই যদিও জামায়াতের  শুরার সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বেশির ভাগই সদস্যই এর বিভিন্ন পর্যায়ের পরিচালকের দায়িত্বে আছেন, তথাপি এ ব্যাংকের বৃহৎ অঘোষিত যে ফান্ড কাতারভিত্তিক কনসোর্টিয়াম তারল্য প্রবাহ করে থাকে এবং গ্যারান্টি ইনভেস্টমেন্টের অধিকারী- সেটা এখনকার প্রধানমন্ত্রীর জানা হয়ে গেছে। কাতারের ইসলামিক ফান্ড এবং ইসলামিক ব্যাংক মিলে যে কনসোর্টিয়াম-সেটা মূলতঃ কাতারের রাজকীয় পরিবারের ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত, আমিরের ব্যক্তিগত তহবিলও এখানে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে, সেই কনসোর্টিয়াম মূলত বাংলাদেশের ইসলামিক ব্যাংকের সিংহভাগ মালিক (এটাকে ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নাই)- অনেকটা অলিখিত হলেও সেটাই সত্য। কেননা বাংলাদেশের শেয়ার বাণিজ্যে সর্বাধিক (বলা ৯৯%) শেয়ার ব্যবসা এ ইসলামি ব্যাংকের, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সকল ফান্ড সহজেই ট্রান্সফার কাজ কেবল ইসলামি ব্যাংকের মাধ্যমেই সম্ভব সহজে এবং দ্রুত। সৌদি আরবের রাজকীয় ব্যাংক আল-রাজির সঙ্গে একটা ফ্যাইন্যান্সিয়াল ডিল রয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের অথবা আল-রাজির সকল চেক কেবল এ ইসলামি ব্যাংকের মাধ্যমে ড্র হয়ে থাকে। আল-রাজির শেয়ার এ ইসলামি ব্যাংকে রয়েছে, ধারণা করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটের ধাক্কা সামলে নেয়ার জন্যে আল-রাজি আর ইসলামি ব্যাংক উভয়ের শেয়ার মার্জ হয়ে থাকতে পারে। আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রথম সারির সকল নেতাদের একাউন্ট এবং ফ্যাইন্যান্স এ ইসলামি ব্যাংকের মাধ্যমে হয়ে থাকে এবং আছেও। আর এ সত্যতার বাস্তব অবস্থানে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী কাতারের আমির এবং ইসলামিক ফ্যাইন্যান্স কনসোর্টিয়ামের উচ্চপদস্থ কর্তা ব্যক্তিদের সম্মুখে সহাস্যে বলেছেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য জামায়াত কোন হুমকি নয়। ঠিক তার পরেই কাতারভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এবং গালফ নিউজের সঙ্গে সাক্ষাতকারেও প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা সহকারে একই বক্তব্য দিয়েছেন। এ বক্তব্যের মধ্যে বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতির গতিপথ অনেকটাই নির্ধারিত ও খোলা হয়ে গেছে।

কেননা এর পরপরই জামায়াত নেতা মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার আযমী সংবাদ সম্মেলন করে তার বাবার দাফন কার্যে সরকারের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের বিচারে সেটাই উত্তম। কিন্তু রাজনীতির পেন্ডুলামে হাসিনা ডাইন্যাষ্টির সঙ্গে সেই রাজনীতির পর্দার আড়ালের যোগসূত্র লক্ষণীয়। কেননা ইসলামিক ব্যাংক এখন এতো শক্তিশালী একটা মার্কেট যে, সেটা ওভারটেক করা কোন সরকারের পক্ষে সহজেই সম্ভব নয়। এখানে শুধু বাংলাদেশী বিনিয়োগ নয়, কাতারের সর্ববৃহৎ ইসলামিক কনসোর্টিয়াম বিনিয়োগ জড়িত, যে বিনিয়োগের কারণে বিগত সরকারের সময় রূপালী ব্যাংক মধ্যপ্রাচ্যের কনসোর্টিয়ামের দ্বারা খরিদ বাধাগ্রস্থ হয়েছিলো। সেই হিসেব সামনে নিলে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, প্রয়াত গোলাম আযমের কথিত বিচার সব কিছুই শেখ হাসিনার সরকারের জন্য একটা গেইম- ইটস এ গেইম। এ গেইম এখন আস্তে আস্তে পর্দা সরিয়ে আলোর দিকে আসছে। আবার প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদ এর মত বয়োজ্যেষ্ঠ পোড় খাওয়া রাজনীতিবীদেরা জীবিত থাকলে শেখ হাসিনা শাপলা অভিযানের মতো কঠিন রাজনীতির মুখোমুখি হতে হতোনা, এমনকি বামদের দ্বারা অতি পরিবেষ্টিত হয়ে অধিক বিরাগ ভাজনের রাজনীতি এমনকি মৃত্যুদন্ডের মতো ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের পরিস্থিতি উদ্ভবের সুযোগ সৃষ্টি না হয়ে ভিন্ন এক রাজনীতির আবহের অনির্ধারিত এক খেলার ছকে ধাবিত হতো সন্দেহ নেই। যেমন হয়েছিলো আব্দুস সামাদ আজাদের জীবিতাবস্থায় শেখ হাসিনার প্রথম দিককার সরকারের সময়ে ইসলাম পন্থী দলগুলোর ম্যানেজ মাস্টার ও অনেক অকথিত রাজনীতির খেলায়- সেদিনও ছিলেন আব্দুস সামাদ আজাদ দক্ষ একজন নাবিকের ন্যায় হাসিনার পেছনে দাঁড়িয়ে।

ছয়. কিন্তু রাজনৈতিক এ গেইম এখন শেখ হাসিনা যেভাবে খেলছেন, গত পাঁচ বছরে খেলতে গিয়ে ভুল চালই দিয়েছিলেন। যার ফলে আমরা দেখি অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনার উদ্ভব হতে। অনেক তাজা প্রাণও সেজন্যে চলে গেছে।

প্রিয় পাঠক এখন খুব ভালো করে খেয়াল করুন, উপরের উল্লিখিত ৪ ও ৫ এর বক্তব্য এখানে নিয়ে আসছি- আলোচনার সুবিধার্থে। বিগত দিনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের যুগপৎ আন্দোলনকে গোলাম আযম তার এক সাক্ষাতকারে (ভিডিও) জানিয়েছেন, সেটা ছিলো জামায়াতের ভুল সিদ্ধান্ত। গোলাম আযম তার আদর্শের রাজনীতির আলোকে সেটা বলেছেন। যুগপৎ আন্দোলনের লিয়াজো কমিটিতে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে গোলাম আযম ছিলেন না। আব্দুল কাদের মোল্লা যাকে আওয়ামী লীগ ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে, সেই কাদের মোল্লা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে লিয়াজো মেইন্টেইন করতেন, আর আওয়ামী লীগের হয়ে আমির হোসেন আমু, আব্দুস সামাদ আজাদ, তোফায়েল আহমেদ আর বিএনপির হয়ে লিয়াজো করতেন প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ওই সময় কাদের মোল্লার সঙ্গে বৈঠক করতেন। যেমন করতেন শরীক দলের নেতা হিসেবে হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ। 

এ কথাটা বামপন্থী নেতারা সকলেই জানতেন জামায়াতের কাদের মোল্লাই শেখ হাসিনার সঙ্গে লিয়াজোর প্রধান মাধ্যম। যুদ্ধাপরাধী মামলার যখন রায় হয়, তখন আমির হোসেন আমু সংস্কার পন্থীর তকমায় শেখ হাসিনার গুড বুক থেকে বাইরে, আবার নিয়তির অমোঘ বিধানে আব্দুস সামাদ আজাদও প্রয়াত, তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাকও বাইরে- একজন প্রয়াত, অপরজন ছিলেন তখনো গুড বুকের বাইরে। এ অনুপস্থিতিতে শেখ হাসিনা বামপন্থীদের খপ্পরে পড়ে রাজনীতির গেইমে ভুল চাল দিয়ে বসেন। আওয়ামী লীগ জামায়াতের পরকীয়া প্রেমের প্রধান যে মাধ্যম সেই কাদের  মোল্লাকে তিনি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেন। যুদ্ধাপরাধী মামলার রায়ে সেটা সঠিক কিন্তু শেখ হাসিনা ডাইন্যাষ্টির রাজনীতির গেইমে তিনি ভুল গেইম ওপেন করে ফেলেন। যদিও সেই গেইম শুধুরাতে গিয়ে তিনি সাঈদী, গোলাম আযম, নিজামীর মামলার রায়ে পুরনো পরকীয়া প্রেমের গেইম ওপেন করে খেলছেন। এখানে বিশেষভাবে না বললেই নয়, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায় যাবজ্জীবন হওয়ার নেপথ্যে কিন্তু সৌদি বাদশাহর ব্যক্তিগত ফোন কলই পুরো সিনারিওকে ঘুরিয়ে দেয়। সেই একই ইসলামিক ফ্যাইন্যান্স আর কাতারভিত্তিক কনসোর্টিয়াম আর আমিরের ব্যক্তিগত সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার বন্ধ দুয়ার খুলে দেয়ার সংযোগ স্থাপনের ব্যক্তিগত অনুরোধে মাওলানা নিজামীর রায়ও মাওলানা সাঈদীর রায়ের অনুরূপ- এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। কেননা মাওলানা সাঈদীর রায়ের পথ ধরেই মাওলানা নিজামীর রায় এসেছে এবং সেই পুরনো প্রেমিকার সঙ্গে নতুন রূপে ঘর সংসারের অভিলাষের যাত্রার শুভ সূচনা মাত্র। এ কারণে ইতিমধ্যে দেখেছি যে মামলার রায় শুরুতে হওয়ার কথা ছিলো ক্যাপিটাল পানিশম্যান্ট, সেটা হয়েছিলো এরকম রায়, যা পরবর্তীতে আইন সংশোধন করে হয়েছিলো মৃত্যুদন্ড। ঠিক একই কায়দায় এ মামলায় প্রথমে হয়েছে মৃত্যুদন্ড, আপিলেট ডিভিশনে বুঝাই যায় তা হয়ে যাবে আজীবন। ব্যতিক্রম আর সব সম্ভবের দেশ এ আমার বাংলাদেশ !

সাত. হাসিনা  ডাইন্যাস্টির এ গেইমে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ একটি নতুন গেইমের নয়া গুরুত্বপূর্ণ  উপাদান। এর পেছনের মাস্টার মাইন্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর আমাদের উপমহাদেশে এ গেইমের ক্যাপ্টেন আমেরিকার হয়ে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আশীর্বাদে শেখ হাসিনা একজন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমাদৃত এক নাম- যা ধীরে ধীরে সেই প্ল্যানের লাইম লাইটে শেখ হাসিনা চলে আসছেন সন্দেহ  নেই। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ভারত এবং শেখ হাসিনা যেমন একমত, তেমনি বাংলাদেশে জামায়াত নিষিদ্ধের বিপক্ষে ভারত এবং শেখ হাসিনা একইভাবে একমত। নয়া দিল্লি কোনভাবেই চায়না জামায়াত নিষিদ্ধ হউক, হাসিনা এ প্রশ্নে নয়া দিল্লির সঙ্গে একই সূত্রে গাঁথা। কেননা নয়াদিল্লী মনে করে, জামায়াতকে যদি নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে এদেশে হামাসের মত গোপন জঙ্গী সংগঠনে রূপ লাভ করবে জামায়াত, যা ভারতের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। শেখ হাসিনা এতে পুরোপুরি একমত। নয়াদিল্লী চায়, শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক গেইমে এমনভাবে খেলুন, যাতে বিএনপি ধ্বংস হয়ে যায়, আর জামায়াত রাজনীতির অপরিহার্য অংশ হয়ে সামনে চলে আসে। তবে উভয়েই চান, জামায়াত যেন পুরনো আদল ছেড়ে তুরস্কের লিবারেল ইসলামিক ডেমোক্রেটিক দলের আদলে নতুন ব্লাড লাইফ নিয়ে সামনে আসে। প্রয়াত গোলাম আযমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (সাবেক) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী যখন সেনাবাহিনীতে ছিলেন, তখন তিনি এনএসআইএতে চাকরি করার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। সে হিসেবে তিনিও সকল খবর কিছুটা হলেও রাখেন এবং জানেন। ইতিমধ্যেই তিনিও তার প্রাক্তনদের মাধ্যমে ব্রিফ পেয়ে গেছেন। শেখ হাসিনার এ রাজনৈতিক গেইমে এবার আওয়ামী লীগ-জামায়াতের পরকীয়া প্রেমের হাল ধরতে গোলাম আযমের ছেলে এবং নয়া ব্লাড লাইফ আস্তে ধীরে চলে আসবেন- এটা এখন অনেকটাই সহজ সরলীকরণ। কিন্তু এ সরলীকরণকে দৃশ্যপটে কঠিন করে তোলার জন্য অর্থাৎ বিএনপির জন্য কণ্টকাকীর্ণ যাতে করা যায়, সে জন্যে আরো অনেক গেইমের বাক্স পেটরা রাজনীতির মাঠে খোলা হবে- সেটাও অনুমেয়। এ গেইম লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের কাছে কিছুটা পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। সেজন্যে তিনিও এখন জামায়াত প্রশ্নে বিএনপিকে দূরত্বে রাখার পক্ষপাতী।

এদিকে জামায়াতের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা ও আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনিও লন্ডন-আমেরিকা ছুটাছুটি করছেন। বিজেপি সরকারের সঙ্গে কথা বলার রাজনীতি শুরু করার চেষ্টা করেও ক্লু পাচ্ছেন না। তবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এখন সেক্ষেত্রে অনেকটাই সফল বলা যায়। লন্ডনের বিজেপি নেতাদের মাধ্যমে নয়াদিল্লির বর্তমান মোদি সরকারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হয়ে গেছে। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের মাধ্যমে জামায়াত এখন গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে গেছে মোদি এবং হাসিনার সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে চায়না, তবে নতুন এক লিবারেল ডেমোক্রেটিক ইসলামিক দল বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেখতে চাচ্ছে।

সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগ-জামায়াতের পর্দার অন্তরালের খেলা তথা পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক বাংলাদেশের রাজনীতিতে  নতুন এক মেরুকরণ নিয়ে আসবে এটা বলা যায়। তবে এ মেরুকরণ আর লেবার অব লাভের খেসারত বাংলাদেশ কিংবা অপর বিরোধীদল বিএনপিকে কতটুকু দিতে হয়- সেটাই এখন দেখার বিষয় ।
----------------------
(প্রকাশিত নিবন্ধে প্রতিফলিত মতামত লেখকের নিজস্ব)

 
 
 

সিলেট, ৩১ অক্টোবর:
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেছেন, স্কাউটস গঠন করা হয়েছিল নেতৃত্ব তৈরীর জন্য। স্কাউট আন্দোলনকে যদি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দান করা হয়, তাহলে স্কাউট আন্দোলন জোর দার হবে। সিলেটের স্কাউটস গুলোকে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব হতে হলে সকলকে কঠিন পরিশ্রমের মধ্যেমে এগিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করা হবে। যারা মেডেল এবং সার্টিফিকেট পেয়েছেন তাদেরকে অভিন্দন।
তিনি (৩১ অক্টোবর) শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ স্কাউটস সিলেট জেলা রোভার এর ৩৩তম বার্ষিক কাউন্সিল সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। জেলা রোভার স্কাউটস এর সম্পাদক মবশ্বির আলীর পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা রোভার স্কাউটস এর সিনিয়র সহ-সভাপতি, মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) হাসান মাহমুদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেটের কলেজ পরিদর্শক মোস্তফা কামাল আহমদ, সিলেট জেলা রোভার স্কাউটস এর কমিশনার জহির উদ্দিন আমিন, লিডিং ইউনিভার্সির প্রক্টর প্রফেসর মোঃ আবুল কালাম চৌধুরী, এম.সি কলেজ সিলেটের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আব্দুল খালেক, মহানগর রোভার স্কাউটসের সম্পাদক ওয়াহিদুল হক।
এদিকে ২০১১ সালে স্কাউট অবদানের জন্য যারা ন্যাশনাল সার্টিফেক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক খান মোহাম্মদ বিলাল, জেলা রোভার স্কাউটস এর সহ-সভাপতি গোলাম কাদির মোঃ আলমগীর, সহকারী কমিশানার এডভোকেট আব্দুল মালিক, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সম্পাদক মবশ্বির আলী, ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ভাস্কর রঞ্জন দাস। ন্যাশনাল সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মোঃ আশিকুর রহমান মিরাজ, ২০১১-১২ সালে আঞ্চলিক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সম্পাদক মোঃ মবশ্বির আলী, সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ রোভারম্যাট হয়েছেন মোঃ আনিছুর রহমান এহিয়া। উডব্যাজ পার্চমেন্ট অর্জন করেছেন মোঃ মবশ্বির আলী। ২০১২-১৩ সালে জেলা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মদন মোহন কলেজের রোভার স্কাউটস গ্রুপ সভাপতি অধ্যক্ষ ডঃ আবু ফতেহ ফাত্তাহ, ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের রোভার স্কাউটস গ্রুপ সম্পাদক বিপুল চন্দ্র দত্ত, মেট্রোপলিন ইউনিভার্সিটি রোভার স্কাউটস গ্রুপের পিএস শাহ মিনহাজ রহমান, মদন মোহন কলেজের রোভার স্কাউটস গ্রুপের ‘ক’ ইউনিট রোভার মোঃ আল হেলাল, মোঃ সিরাজুল ইসলাম। তাদের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন জেলা রোভার স্কাউটস এর সভাপতি, জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম।
শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইমরান আহমদ মুহিত। গীতা পাঠ করেন রুমা চৌধুরী। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন মবশ্বির আলী। মোনাজাত পরিচালনা করেন মোঃ হাবিবুর রহমান। বিজ্ঞপ্তি

               

 
 
 

সিলেট, ৩১ অক্টোবর: বৃহস্পতিবার হরতাল বিরোধী মিছিলের নামে নগরীতে মহড়া দেয়া অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং নিরীহ জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার-হয়রানী বন্ধ করে আটককৃতদের মুক্তি দাবী জানিয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী মাওলানা সোহেল আহমদ বলেন, সরকার দলীয় কতিপয় শীর্ষ নেতাদের মদদে ও পুলিশের সহায়তায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা ক্রমেই পুণ্যভূমি সিলেটকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা সিলেটের দীর্ঘদিনের সহনশীল রাজনৈতিক ইতিহাসকে বার বার কলুষিত করেছে। গত বৃহস্পতিবার নগরীতে ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী ক্যাডারদের ছবি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। সিলেটবাসী তাদের এই শসস্ত্র মহড়ায় আতংকিত। একদিকে নিরীহ জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীদের উপর গণগ্রেফতার ও হয়রানী চালানো হচ্ছে, অপরদিকে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের শসস্ত্র মহড়া দেয়ার ঘটনায় সিলেটবাসীর মধ্যে  উদ্বেগ বিরাজ করছে।
তারা বলেন, এমন কোন কুকান্ড নেই যা সিলেট ছাত্রলীগ করেনি। তাদের ধ্বংসলীলা থেকে রেহাই পায়নি সিলেটের শতবর্ষের ঐতিহ্যের স্মারক এমসি কলেজ ছাত্রাবাস, সরকারী কলেজ ছাত্রাবাস, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবাস ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবাস সহ সিলেটের অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক ডাকাতি থেকে শুরু করে সিলেটের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্য দিবালোকে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ছাত্রলীগ সিলেটবাসীর কাছে এক মুর্তিমান আতংক হিসেবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এসব নৃশংস ও জঘন্য তান্ডবের কোন বিচার হয়নি। আর নিরীহ জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীদের উপর চালানো হচ্ছে নির্যাতনের ষ্টীম রোলার। শত শত মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের বাসাবাড়ীতে তল্লাশী ও গ্রেফতারের নামে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। অবিলম্বে গণগ্রেফতার-হয়রানী বন্ধ করে আটককৃত অর্ধশতাধিক নিরীহ জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীদের মুক্তি দিন। একই সাথে অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ ক্যাডারদের  গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। অন্যথায় সর্বস্তরের সিলেটবাসীকে সাথে নিয়ে পুণ্যভূমি সিলেটের শান্তি শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে ঐসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
               

 
 
 

নিউজডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীর রায় বিপক্ষে গেলে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার ৪৮ ঘণ্টা হরতাল দেবে জামায়াত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানা গেছে।
আগামী রবিবার মীর কাশেম আলীর রায় নিজেদের পক্ষে না গেলে ওই দিনই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হরতালের ঘোষণা দেবে জামায়াত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির মজলিসে সূরার এক সদস্য জানান, মীর কাশেম আলীর রায় বিপক্ষে গেলেই বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের ঘোষণা আসতে পারে।
দলটির চিন্তা ছিল ৭২ ঘণ্টা হরতাল ডাকার। কিন্তু আগামী মঙ্গলবার পবিত্র আশুরা থাকার কারণে সেদিন হরতাল না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে ৭২ ঘণ্টা হরতাল পালন করছে জামায়াত।   

সুত্র:আটিএনএন           

 
 
 

সিলেট, ৩১ অক্টোবর:
নগরীর পূর্ব সুবিদবাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় ইসহাক মল্লিক (২৫) নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা ওই যুবককে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার শরীরে কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় নগরীর পূর্ব সুবিদবাজার ফুলকলি’র শো-রুমের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ইসহাক মল্লিক নগরীর আখালিয়া নয়াবাজার এলাকার সাজ্জাদ মল্লিকের ছেলে। রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অজ্ঞাত ৩/৪ জন যুবক ইসহাক মল্লিককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাহত করে ঘটনাস্থলে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।হাসপাতাল সূত্র জানায়, দুর্বৃত্তরা ইসহাকের হাতে, বুকে ও দুই উরুতে ছুরিকাঘাত করে। তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। রাত সোয়া ১২ টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার শরীরে অস্ত্রপচার চলছিল। তিনি জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আহতের বড় ভাই তোহেল মল্লিক বলেন, সে কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। ঘটনার আগে ফাইজুল, রুবেল ও আলীবুর নামের তিন বন্ধু ইসহাককে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আসে। জ্ঞান হারানোর আগে ইসহাক বলেছে- বন্ধুরাই তাকে মেরেছে।সিলেট কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) শাহ মো. মোবাশ্বির বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হামলার কারণ ও দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

 
 
 

সিলেট, ৩১ অক্টোবর:
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা: দিলীপ কুমার রায় বলেছেন, হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে। সরকার হোমিওপ্যাথিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজগুলো অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তিনি  বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর বন্দরবাজারস্থ মধুবন-এর ৬ষ্ঠ তলায় বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ‘রাগীব-রাবেয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’র উদ্বোধনী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। মানুষকে সেবা দেয়ার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। হোমিও চিকিৎসা হচ্ছে পৃথিবীর একটি উন্নত চিকিৎসা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হোমিওপ্যাথিক বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমান সরকারের আমলে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ও সহযোগিতায় বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে হোমিও চিকিৎসাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। রাগীব-রাবেয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের ফলে শিক্ষার্থীরা এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, দেশে ১শ’৫১টি হোমিওপ্যাথিক কলেজ রয়েছে, তবে অনেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভূমিও নেই। সিলেটে দীর্ঘদিন ধরে একটি হোমিওপ্যাথিক কলেজে পাঠদান করা হচ্ছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ভূমি না থাকায় সরকারীভাবে এখানে ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে দেশের কয়েকটি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের কার্যক্রম এক সময় ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হতো। বর্তমানে বোর্ডের কার্যক্রম নিজস্ব ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। এ সবই সম্ভব হয়েছে হোমিওপ্যার্থিক বান্ধব জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে। ডা. দিলীপ কুমার রায় ‘রাগীব-রাবেয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ প্রসংগে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি ব্যতিক্রম। অসংখ্য শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও প্রতিষ্ঠাতা দানবীর ড. রাগীব আলী সূচনাতেই নিজস্ব ভবনে এর কার্যক্রম শুরু করেছেন। তাঁর হাত ধরেই এর অগ্রযাত্রা অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তিনি সিলেটের প্রথম বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেটের প্রথম বেসরকারী মেডিকেল কলেজ জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজসহ দেশের অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, অসংখ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর ড. রাগীব আলীর মানবসেবামূলক কর্মকান্ডের উল্লেখ করে বলেন, ইতিহাসে এমন ব্যক্তি বিরল। আমার বিশ্বাস দানবীর ড. রাগীব আলীর পৃষ্ঠপোষকতায় এ হোমিও কলেজটি ডিগ্রী পর্যায়ে এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ পাবে। স্বীকৃতি পেতে যে সব শর্ত পূরণ করতে হয় দানবীর ড. রাগীব আলীর মধ্যে সে সব গুণাবলী ও যোগ্যতা রয়েছে। ডা. দিলীপ কুমার রায় এ মেডিকেল কলেজটির স্বীকৃতির ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, দানবীর ড. রাগীব আলী একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। মানবসেবায় এ পর্যন্ত তিনি যে অবদান রেখেছেন তাতে তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদান সময়ের দাবী। তাকে যথার্থ সম্মান প্রদানের জন্যে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রচেষ্টা চালাবো। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রবাসী সংগঠক, দেশে-বিদেশে অসংখ্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের রূপকার ও প্রতিষ্ঠাতা, মানবসেবায় নিবেদিত প্রতিষ্ঠান রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বরেণ্য শিল্পপতি ও রাগীব-রাবেয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ মেজর জেনারেল (অব:) ডা: নাজমুল ইসলাম, লিডিং ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কিসমাতুল আহসান, সমাজসেবী ও শিল্পপতি শওকত চৌধুরী টিপু, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি আব্দুল কাদির, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সম্পাদক আব্দুল হাই টিপু, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ খন্দকার রফিকুর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক এম. কে আনোয়ার, হোমিও চিকিৎসক সমিতি সিলেটের সভাপতি ডা: বীরেন্দ্র চন্দ্র দেব। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, রাগীব-রাবেয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা: আব্দুল জলিল চৌধুরী। সভাপতির বক্তব্যে দানবীর ড. রাগীব আলী বলেন, হোমিওপ্যাথিক কলেজ সৃষ্টির উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবসেবা করা। গ্রামে-গঞ্জে উপযুক্ত চিকিৎসা থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক সময় ডাক্তার পাওয়া যায় না। এলোপ্যাথিক চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অনেক দরিদ্র পরিবারের পক্ষে দু:সাধ্য হয়ে পড়ে। তাই গরীব-দুস্থদের স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা দেয়ার লক্ষ্যে আমি এই হাসপাতাল গড়েছি। তিনি আরও বলেন, আমার জীবনের কষ্টার্জিত সকল অর্থ দিয়ে আমি যে সব প্রতিষ্ঠান গড়েছি, সেই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের কল্যাণ, দেশের কল্যাণ। একইভাবে রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনও প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দানবীর ড. রাগীব আলী আরো বলেন, আমার জীবন আমি মানব কল্যাণেই ব্যয় করতে চাই। এজন্যে শিক্ষাক্ষেত্রে, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করছি। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদেরকে গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছি। আমার প্রতিষ্ঠিত লিডিং ইউনিভার্সিটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের বিনামূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ করে দিয়েছি। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল (অব:) ডা: নাজমুল ইসলাম বলেন, রাগীব-রাবেয়া পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে এ নতুন সংযোজনে আমি গর্ববোধ করছি। দানবীর ড. রাগীব আলী সমাজের প্রতিটি সেক্টরে অবদান রাখলেও হোমিও চিকিৎসার উন্নয়নে তার এ উদ্যোগ এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এ সময় তিনি ড. দানবীর রাগীব আলীর জীবনের সকল সাফল্যের পেছনে তাঁর সুযোগ্য সহধর্মিণী মরহুমা রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর বিশেষ অবদান রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, এই মহিয়সী নারী পরলোকে চলে গেলেও এসব মহৎ কর্মকান্ডের জন্য মানুষ তাঁকে চিরদিন মনে রাখবে। প্রফেসর ড. কিসমাতুল আহসান বলেন, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা হচ্ছে সনাতনী চিকিৎসা। যিশু খ্রীষ্টের জন্মের পূর্বে পৃথিবীতে এ চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু হয়েছিল। দানবীর ড. রাগীব আলী এ অঞ্চলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ব্যাপ্তি ছড়াতে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখছে। এতে স্বল্প ব্যয়ে মানুষের চিকিৎসা গ্রহণ সম্ভব হবে। খন্দকার এম.কে আনোয়ার বলেন, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার উন্নয়নে দানবীর ড. রাগীব আলীর এ পদক্ষেপ মানুষের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। মানুষকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানটি সুনাম বয়ে আনবে। এতে সিলেটের মুখ যেমন উজ্জ্বল হবে তেমনি বাংলাদেশে হোমিও চিকিৎসা আরও জনপ্রিয়তা লাভ করবে। রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি আব্দুল কাদির বলেন, অনেকের ধারনা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শুধুমাত্র গরীবদের। এ ধারনা সঠিক নয়। এ চিকিৎসা ধনী-গরীব সকলের। আমার বিশ্বাস দানবীর রাগীব আলীর ছোঁয়ায় তার আরো অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের মতো এটিও একটি সফল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। ডা: বীরেন্দ্র চন্দ্র দেব বলেন, হোমিওপ্যাথিক হচ্ছে বিজ্ঞানভিত্তিক স্বল্প সময়ের স্বল্প ব্যয়ের চিকিৎসা পদ্ধতি। শুধু বাংলাদেশে নয়, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও এলোপ্যাথিক চিকিৎসার ব্যয় যোগাতে গিয়ে ১০ থেকে ১১ভাগ লোক নি:স্ব হচ্ছে। মানবতার সেবক দানবীর ড. রাগীব আলী এ উদ্যোগ গ্রহণ করে বঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছেন। স্বাগত বক্তব্যে রাগীব-রাবেয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল জলিল চৌধুরী বলেন, দানবীর ড. রাগীব আলী প্রতিষ্ঠিত এ হোমিও কলেজটি ইনশাআল্লাহ দেশের একটি সেরা কলেজে পরিণত হবে। এনাটমীসহ বিভিন্ন বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষা দেয়া হবে। বিশেষ করে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে কোন ধরনের আপোস করা হবে না। দৈনিক সিলেটের ডাক এর সাহিত্য সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মুকিত অপি’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। এ সময় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা ওলি উল্লাহ খান মাহমুদ। এর আগে মধুবনের ৫ম তলায় রাগীব-রাবেয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাম ফলক উন্মোচন করেন বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা: দিলীপ কুমার রায়। পরে ডা: দিলীপ কুমার রায় ও রাগীব-রাবেয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী ফিতা কেটে রাগীব-রাবেয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিজস্ব ক্যাম্পাস উদ্বোধন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কিসমাতুল আহসান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ খন্দকার রফিকুর রহমান, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের ট্রাষ্টি আব্দুল কাদির ও দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সম্পাদক আব্দুল হাই টিপু, সমাজসেবী ও শিল্পপতি শওকত চৌধুরী টিপু, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক এম. কে আনোয়ার, হোমিও চিকিৎসক সমিতি সিলেটের সভাপতি ডা: বীরেন্দ্র চন্দ্র দেব, রাগীব-রাবেয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা: আব্দুল জলিল চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট রফিকুল হক, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সচিব মেজর (অব:)শায়েখুল হক চৌধুরী, উপ-সচিব মুনতাসির আহমদ, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি আব্দুল হান্নান, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর নির্বাহী সম্পাদক বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আব্দুল হামিদ মানিক, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক দেওয়ান তৌফিক মজিদ লায়েক, বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডা: দীনুল ইসলাম চৌধুরী, লামাকাজীস্থ রাগীব-রাবেয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ একেএম ছিফত আলী প্রমুখ।                

 
 
 

এসডিআর পিনাক: হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ আবু সুফিয়ানের প্রেসক্রিপশন মতো অপসোনিন ফার্মার ৫০০ মি.গ্রা. রোনেম ইনজেকশন পুশ করার পর মারা গেছে ১৯ দিনের শিশু। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় সদর আধুনিক হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দুধের শিশুকে হারিয়ে হাসপাতালে মায়ের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে হাসপাতালের বাতাস।
শিশুটির পিতা কামাল মিয়া জানান, গত মঙ্গলবার সকালে তার শিশুকন্যা এনি ঠান্ডাজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে দুপুরে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এনির অবস্থার কোন উন্নতি না হলে তিনি ডাঃ আবু সুফিয়ানের চেম্বারে শিশুটিকে প্রাইভেট দেখান। এ সময় ডাঃ আবু সুফিয়ান ব্যবস্থাপত্রে মেরোপেনেম ৫০০ মি.গ্রা. গ্র“পের অপসোনিন ফার্মার রোনেম নামে একটি এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন লিখে দেন। এ সময় রোগীর অভিভাবকরা ফার্মেসী থেকে ওষুধটি কিনতে চাইলে তিনি বলেন ওষুধটি তার কাছে আছে, ফার্মেসী থেকে কিনতে হবে না। পরে তিনি তার কাছে থাকা অপসোনিন ফার্মার রিপ্রেজেনটেটিভদের (এমআর) দেয়া সেম্পলটি রোগীর অভিভাবকদের হাতে তুলে দেন। ওষুধটির নির্ধারিত মূল্য ৬৫২ টাকা হলেও তিনি এনির পিতার কাছে ৫শ’ টাকায় বিক্রি করেন। পরে তার চেম্বার থেকে ওই ওষুধটি হাসপাতালে নিয়ে আসলে শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স এনির শরীরে তা প্রয়োগ করে। ইনজেকশনটি প্রয়োগ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশু এনি নিস্তেজ হতে থাকে। পরে সে রাত ১০টার দিকে মারা যায়। শিশুটির মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে আসা তার মা সহ স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালের বাতাস ভারি হয়ে উঠে। শিশু এনির পিতা কামাল আরও জানান, রোনেম ইনজেকশনটি দেয়ার আগে তার শিশুকন্যা এনি হাসছিল, হাত-পা নাড়াচাড়া করছিল। কিন্তু ইনজেকশনটি দেয়ার পর এনি আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।               

 
 
 

সিলেট, ৩১ অক্টোবর: বাংলাদেশে অবস্থানরত বৃটিশ নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সেবা প্রদান আরো সহজতর করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ও সিলেটস্থ বৃটিশ হাই কমিশন। এখন থেকে হাই কমিশনের কনস্যুলার সার্ভিস শাখা থেকে যে কোন সহায়তা পেতে যেতে হবে না হাই কমিশনে। ঘরে বসে ইমেইলের মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে পরামর্শ নেয়া যাবে। আর বিশেষ প্রয়োজনে কনস্যুলার শাখার কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করতে এপয়েনমেন্ট নেয়া যাবে টেলিফোনে।
 
ঢাকাস্থ বৃটিশ হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকা ও সিলেটে অবস্থিত বৃটিশ হাই কমিশনের কার্যালয়ে ১ নভেম্বর থেকে কনস্যুলার সেবা গ্রহণ করতে হলে আগেই +৮৮০ ২ ৮৮২২৭০৫ এই নাম্বারে যোগাযোগ করে এপয়েনমেন্ট নিতে হবে।

রবি থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টেলিফোন করে এই এপয়েন্টমেন্ট নেয়া যাবে। এর ফলে, সেবা গ্রহণে আগ্রহীকে প্রাথমিকভাবেই টেলিফোনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে কনস্যুলার সেকশনের কর্মকতার সাথেও দেখা করার সুযোগ দেয়া হবে।

এছাড়া, কনস্যুলার শাখার ইমেইল consular.bangladesh@fco.gov.uk  এর মাধ্যমেও সহায়তা চাওয়া হলে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। বাংলাদেশে অবস্থিত বৃটিশ কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েব সাইটwww.gov.uk/world/bangladesh থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

ঢাকা ও সিলেটস্থ বৃটিশ হাই কমিশনের কনুস্যলার সেকশন বাংলাদেশে অবস্থানরত বিপদাপন্ন বৃটিশ নাগরিকদের জন্য আইনী সহায়তাসহ যে কোন সাহায্য প্রদান করে। তবে, পাসপোর্ট বা ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে সহায়তার জন্য হাই কমিশনের আলাদা শাখায় যোগাযোগ করতে হবে, যা হাই কমিশনের ওয়েব সাইট থেকে জানা যাবে।
       

 
 
 

সিলেট ৩০ অক্টোবর:
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর বুধবার দুপুরে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ও কোর্ট পয়েন্টে জামায়াত-শিবির, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কোতোয়ালী থানার এএসআই (নিঃ) উৎপল চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে ২০ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২৫ জনকে আসামী করে বিস্ফোরক আইনে থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। নং- ৩৯ (২৯-১০-১৪)।
এদিকে, ঘটনার দিন গ্রেফতার হওয়া নগরীর রায়নগরের মোঃ মাহবুবর রশিদ (২৫), শাহজালাল উপশহরের আবু সুফিয়ান (২৬), একই এলাকার মুশাহিদ আহমদ (৩৪), ফেঞ্চুগঞ্জের মোঃ শহিদুল ইসলাম (২৫), হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার মেহেদী হাসান মিঠুন (২০), জৈন্তাপুরের মাসুক আহমদ (২০) ও নগরীর রাজারগলির ৩৩ নং বাসার নাজিম আহমেদকে (২০) বৃহস্পতিবার পুলিশ আদালতে হাজির করে। পরে আদালত তাদেরকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

মামলার এজারহারনামীয় অপর আসামীরা হচ্ছেন- নগরীর জিন্দাবাজারের ফয়সাল (৩২), দক্ষিণ সুরমা এলাকার কাজিরখলার সোহেল (৪০), আখালিয়ার আব্দুর রাজ্জাক খান (২৮), রায়নগর খারপাড়ার দেলোয়ার (৩২), রায়নগরের প্রত্যয় এলাকার পাপ্পু (২৮), রায়নগর দর্জিবন্দের আমিন (৩২), খারপাড়া মিতালীর মোঃ কাদির (৩০), একই এলাকার সেবকের তাহমিদ বিন সহিদ (২৫), নগরীর দরগা মহল¬ার শাহরিয়ার আলম সিপার (৩২), শেখঘাট শুভেচ্ছা ও মদন মোহন কলেজ শিবিরের নেতা মাহবুব (২৪) ও  একই এলাকার আব্দুল মালেক (৩৩)।

উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপুর ১টার দিকে নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধে মাওলানা নিজামীর একটি মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির। এসময় তারা বন্দর বাজার ও কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে রায় প্রত্যাখান করে শ্লোগান দিতে থাকে। অন্যদিকে নিজামীর ফাঁসির রায় ঘোষনাকে স্বাগত জানিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার হোসেন ছামাদের নেতৃত্বে কোর্ট পয়েন্টে ২০/২৫ জনের একটি মিছিল আসার খবর শুনে উত্তেজিত হয়ে উঠে জামায়াত-শিবির কর্মীরা । এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের মিছিলটিকে ধাওয়া করে শিবির কর্মীরা। এ সময় উভয়পক্ষ উত্তেজিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় বন্দরবাজার ও মধুবন মার্কেটের সামনে সিএনজি অটোরিক্সা ও মোটরসাইকেলসহ অন্তত ৩০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা পিছু হটে পার্শবর্তী কালেক্টরেট মসজিদে প্রবেশ করে আত্মরক্ষা করেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তারা বেরিয়ে আসে। এ সময় পুলিশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এসময় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককেই দিগিবিদিক দৌড়াতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের দোকানপাট বন্ধ করে দেন। সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো নগরীতে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।               

 
 
 
 
 
কবিতা
শিল্প-সাহিত্
মিডিয়া
ইসলাম
Image Missing
 
 
বিনোদন
বিনোদন
বিচিত্রা
বিচিত্রা
মুক্তমঞ্চ
Image Missing
 
 
খেলাধুলা
খেলাধুলা
স্বাস্থ্য
স্বাস্থ্য
তথ্য-প্রযুক্তি
তথ্য-প্রযুক্তি
 
 
সংবাদদাতা
জীবন সদস্য
সম্পাদক
 
দেশ বিদেশ
 
 
 

নিউজডেস্ক: ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। তার পিতার মৃত্যুর পর বিএনপির ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করে দেয়া স্ট্যাটাসকে একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, আমি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। আমি যা বলেছি তা একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত। তারপরও আমার মন্তব্যের কারণে যদি কেউ মানসিকভাবে আহত হয়ে থাকেন তাহলে আমি খুবই দুঃখিত। অধ্যাপক গোলাম আযম যে যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না ইতিহাস একদিন তা প্রমাণ করবে বলেও দাবি করেন তিনি । গতরাতে বেসরকারি টিভি চ্যানেল একাত্তরের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। আযমীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার দুঃখ প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওদিকে, আব্দুল্লাহিল আমান আযমীর বক্তব্যের ব্যাপারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সেটি গোলাম আযম পুত্রের ব্যক্তিগত মতামত। তাই আমরা বিষয়টি আমলে নেবো না।  তিনি বলেন, অধ্যাপক  গোলাম আযম সাহেবের ছেলে জামায়াতে ইসলামীর কর্মকর্তা কিংবা সদস্য কিনা আমার জানা  নেই। জামায়াতের সঙ্গে আমাদের যে জোট রয়েছে, তা একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচন ও দেশে যে  দুঃশাসন চলছে তা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য। এরআগে এক ফেসবুকে স্ট্যাটাসে আযমী লিখেছিলেন ‘অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুর পর পুরো বিশ্ব শোক প্রকাশ করলেও বিএনপির নীরবতায় পুরো জাতি হতাশ। আমি জানি না কেন! ‘আমার এটা বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে, জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপি কখনোই সরকার গঠন করতে পারতো না। দুঃখের বিষয়, এই দলের প্রতিষ্ঠাতা আমীর এবং আমৃত্যু আধ্যাত্মিক গুরুর মৃত্যুতে তাদের নীরবতা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য!’ বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেন, ‘জামায়াতের সমর্থন ছাড়া তারা কখনো ক্ষমতায় যেতে পারবে না-এটা মাথায় রাখলে বিএনপি ভালো করবে। এটা আমার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। ‘তারা কতো অকৃতজ্ঞ হতে পারে!!!”               

 
 
 
 
 
 

ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আল আযমী শুধু অধ্যাপক গোলাম আযমের পুত্র। আযমী জামায়াতের কোনো পদে নেই, তাই তার মন্তব্য ব্যক্তিগত।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।
গোলাম আযমের মৃত্যুর পর বিএনপির নীরবতায় ক্ষুব্ধ আযমী ফেসবুকে এক স্টেটাসে লিখেছেন, জামায়াত ছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারবে না, এটা আমার চ্যালেঞ্জ। তিনি বিএনপিকে অকৃতজ্ঞ বলেও মন্তব্য করেন।
আযমীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ফখরুল বলেন, ‘আযমী জামায়াতের কোনো পদে নেই, তাই তার এ মন্তব্য ব্যক্তিগত এবং আমরা এ কমেন্ট গ্রহণ করব না।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জামায়াত আমাদের সঙ্গে ২০ দলীয় জোটে আছে, এ ব্যাপারে তাদের সরাসরি কোনো বক্তব্য নেই। আযমী কি বলেছেন তা তার একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার।’
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন বিষয়ে তিনি যে কথা বলেছেন তাতে বুঝা যায় তিনি জনগণের দাবির কাছে নতি স্বীকার করছেন। তিনি বুঝতে শুরু করেছেন দেশের মানুষ অতিদ্রুত একটি নির্বাচন চায়।
নির্বাচন হলে বিএনপির তাতে অংশ নিতে প্রস্তুত কিনা জানতে চাইলে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, বিএনপি সব সময়ই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত এবং সে নির্বাচনে অবশ্যই জয় লাভ করবে। আপনারা ইতোপূর্বে সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং উপজেলা নির্বাচনে এটা দেখেছেন। তবে নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ থাকতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনের আগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যৌথ সভায় ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এর মধ্যে ৭ নভেম্বর  সকাল ৬ টায় নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের সকল কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন সকাল ১০ টায় বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। ৮ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া পোস্টার, ক্রোড়পত্র প্রকাশ, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল কবির খোকনসহ ঢাকা বিভাগের সকল জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।       

 
 
 
 
 
 

ঢাকা: রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিএসইসি ভবনের অগ্নিকাণ্ডে দৈনিক আমার দেশ- কার্যালয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে পত্রিকাটির সাংবাদিক ও কর্তৃপক্ষ বলছেন, এই অগ্নিকাণ্ডকে তারা ‘রহস্যজনক’ মনে করছেন।
এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এমন সময় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো যেদিন আলোচিত এই দৈনিকটি বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) ভবন ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
পত্রিকার সাংবাদিক ও কর্তৃপক্ষ বলছে, ঠিক এই সময়ে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা স্বাভাবিক বলে তারা মনে করছেন না। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

দমকল বাহিনীর বরাত দিয়ে আমার দেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, অগ্নিকাণ্ডে পত্রিকাটির মেইন সার্ভার, প্রডাকশন রুম, ডজন ডজন কম্পিউটার, রেফারেন্স, সংরক্ষিত পত্রিকা এবং ১১ বছরের যাবতীয় দলিল দস্তাবেজ ছাই হয়ে গেছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর শুক্রবার বিএসইসি ভবনের সামনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ।


এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ-এর বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, নগর সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা  রিপোটার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ড্যাবের মহাসচিব এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএফইউজের মহাসচিব এমএ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সাংবাদিক নেতা বাছির জামাল প্রমুখ।


সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে সরকারি রোষানলে পড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া আমার দেশ সরকারী মালিকানাধীন বিএসইসি ভবন কর্তৃপক্ষের দেনাপাওনার বিষয়টি সুরাহা করে শুক্রবার অন্যত্র অফিস শিফট করছিল। সকালে অফিস স্থানান্তরের কাজ শুরু হওয়ার পরই এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।



তিনি জানান, অফিস স্থানান্তরের জন্য আগেই এসি খুলে রাখা হয়েছিল, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন  করা হয়েছিল। তবে বিএসইসির চেয়ারম্যান দেশের বাইরে থাকায় তাদের স্থানান্তরের কাজ বিলম্বিত হয়।


তিনি বলেন, যদিও ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি তবে যতটুকু জানা গেছে তাতে বলা যায় এতোবড় ক্ষতি বহন করার সাধ্য আর আমার দেশ কর্তৃপক্ষের নেই।


তিনি বলেন, সরকার ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল আমার দেশ বন্ধ করে দেয়ার পর আর্থিক সংকট এতোটাই গভীর হয়েছে যে ভবিষ্যতে বিএসইসির ভাড়া শোধ অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে আশঙ্কা করে বহু স্মৃতিবিজড়িত অফিসটি ছেড়ে দিতে হয়েছে।


২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিএসইসি ভবনেই ছিল আমার দেশ কার্যালয়।


সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, আমার দেশ- এর ৫০০ শতাধিক সংবাদকর্মী এখন বেকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।


তিনি অবিলম্বে আমার দেশ খুলে দেয়া এবং পত্রিকাটির ভারপাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করেন।


এই দুঃসময়ে আমার দেশ-এর পাশে দাঁড়ানোর জন্য দেশ বিদেশের সকল গণমাধ্যম এবং দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান সৈয়দ আবদাল আহমদ, যিনি জন্মলগ্ন থেকেই পত্রিকাটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।


এদিকে এক প্রশ্নের জবাবে আমার দেশ –এর বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী বলেন, আগুন আমার দেশ অফিসের অন্তত ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।


তিনি জানান, আমার দেশ আবার নতুন  উদ্যমে অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে ব্যয়বহুল অফিস (প্রায়  সাড়ে ৫ লাখ টাকা ভাড়া) ছেড়ে ছোট পরিসরের অফিস নিয়ে কাজ করার জন্য গুলশানের নিকেতনে অফিস নিয়েছিল। লক্ষ্য ছিল ভাড়ার খরচ কমিয়ে পত্রিকাটির স্টাফদের যথাসম্ভব বেতন পরিশোধ করা। ঠিক এই সময়ে  এ অগ্নিকাণ্ডকে তারা মেনে নিতে পারছেন না।               

 
 
 
 
 
 

জাহাঙ্গীর আলম আনসারী: আপাতত জামায়াতের রাজনীতিতে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন না অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে সাবেক সেনাকর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। রাজনীতিতে সময় না দিয়ে তিনি দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখতে চান। এজন্য তিনি ২০ বছর মেয়াদী একটি পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছেন।

তিনি মনে করেন, গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একঝাঁক সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক পাবে।   

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের মগবাজার কাজী অফিস লেনের বাসায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি তার ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে যে ধারার রাজনীতি চলছে হঠাৎ করে এতে অংশ নিয়ে কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তবে রাজনৈতিক পরিবারের ছেলে হিসেবে এ বিষয়ে তিনি খুবই সচেতন। তিনি মনে করেন বাংলাদেশের মূল সমস্যা হচ্ছে শিক্ষা। সুশিক্ষা না থাকায় দেশে ভালো মানুষের সংখ্যা কাক্সিক্ষত পরিমাণে বাড়ছে না। সেকারণে শিক্ষাঙ্গন থেকে একঝাঁক নৈতিক মানসম্পন্ন দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করতে চান তিনি। তারা শুধু যোগ্য হবেন না, দক্ষও হবেন।

আযমী বলেন, রাজনৈতিক পরিবারের ছেলে হিসেবে তিনিও রাজনৈতিক সচেতন। যখন আগরতলা মামলা হয়ছিল তখন থেকেই তিনি রাজনীতির সব বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছেন। তবে, তিনি সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন না বলেও জানিছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ভালো মানুষ তৈরির সুযোগ কম। আর ভালো মানুষ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অধিকাংশ শিক্ষাবিদগণই খুব বেশি চিন্তা করেছেন না। তিনি মনে করেন শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন ছাড়া সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রে পরিবর্তন আসবে না। তাই নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্য তার।

আযমী জানান, সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন সময়ে তিনি  শিক্ষা নিয়ে কাজ করেছেন। সেখানে তিনি সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই সময় তিনি পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালে তার কাছে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার যেসব ত্রুটি ধরা পড়েছে তা মাথায় রেখেই অগ্রসর হতে চান তিনি।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৪ জুন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এটি যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ছিল না তা গণমাধ্যম ও দেশবাসী সকলেই জানে।

তিনি জানান, ২৪ জুনের পর থেকে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরির অফার পাওয়ার পরও তা গ্রহণ করেননি। দেশের নতুন প্রজন্মকে যোগ্য, দক্ষ ও প্রকৃত দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে তৈরি করাই এখন তার মূল টার্গেট। এছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে চিন্তা এখন তার মাথায় নেই। 

ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে তিনি। এ কাজেই ব্যস্ত থাকতে চান।

তিনি মনে করেন, শিক্ষকরাই হচ্ছেন সমাজ পরিচালনার মূল শক্তি। আলোকিত মানুষ গড়তে মূল কাজটিই করেন শিক্ষক সমাজ। শিক্ষকদের যদি আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা না হয় তাহলে ভালো মানুষ পাওয়া যাবে না।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে তিনি মিরপুরে ‘ভিশন স্কলার একাডেমি’ নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করছেন। আগামী ১ জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করবেন তিনি। ওই স্কুলের জন্য তিনি ইতোমধ্যে ৩১ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন। এ স্কুলটিকে তিনি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে নিয়েছেন। এরপর পর্যায়েক্রমে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করবেন।

তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা হবেন সবদিক থেকে বিশেষজ্ঞ। বাংলা, অংক, ইংরেজি, সমাজ বিজ্ঞান, ধর্ম, ভূগোল, ক্রীড়া ও সাংবাদিকতাসহ প্রায় সব ধরনের সাধারণ জ্ঞান থাকবে তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষাকদের।

তিনি বলেন, তরুণরা নৈতিক শিক্ষা না পেলে সমাজ থেকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দূর হবে না। নাগরিকরা যোগ্য ও দক্ষ হলে বাংলাদেশ একসময় উন্নত দেশে পরিণত হবে বলেও মনে করেন তিনি।
       

 
 
 
 
 
 

তৈয়বুর রহমান টনি নিউ ইয়র্ক থেকেঃ
মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির রায় ঘোষিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আনন্দ প্রকাশ করেছে। ১৯৭১ সালের হিংস্র আলবদর বাহিনীর প্রধান ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি নিজামী নরহত্যা ও নারী ধর্ষণের মূল সহযোগী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে আদালতে ৮টি অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নিজামীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির রায় ঘোষণার খবর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছার সাথে সাথেই আনন্দে ফেটে পড়েন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গভীর রাত্র পর্যন্ত নেতাকর্মীরা জ্যাকসন হাইটস এ উপস্হিত ছিলেন মতিউর রহমান নিজামীর শাস্তি ফাঁসির রায় শোনার জন্য। অবশেষে নিউ ইয়র্কে মধ্যরাতের সংবাদে ফাঁসির রায় ঘোষিত হওয়ায় উপস্হিত সকলে আনন্দ উল্লাস করেন এবং নেতাকর্মীদের মাঝে মিষ্টি বিতরন করেন।

বর্তমানে নিউ ইয়র্কে অবস্হানরত মহিলা এম,পি এ্যাডভোকেট ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী  তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই ফাঁসীর আদেশের মধ্যদিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দেশ আরো একধাপ এগিয়ে গেল। তিনি বলেন, এ দেশে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের কোনো জায়গা নেই। এ রায়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আরো একধাপ এগিয়ে গেলো। ১৯৭১ সালে গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত কুখ্যাত নায়কদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হচ্ছে। এটা অনেক বড় প্রাপ্তি। এ রায়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে ’৭১ সালে জামায়াত রাজনৈতিকভাবে যুদ্ধাপরাধ করেছে”।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এর সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নিজামীর ফাঁসির রায়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এটা জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। এ রায়ের মাধ্যমে শহীদদের আত্মা শান্তি পেয়েছে। জামায়াতের ডাকা হরতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল আদালত অবমাননার শামিল। জামায়াতের হরতালের বিষয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জামায়াতের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে নাটোরের বৃহস্পতিবারের সমাবেশ স্থগিত করেছেন। এ কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তন প্রমাণ করে খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদেরও নেত্রী।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এর সাধারন সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায়ের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এ রায়ের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া এ রায়কে দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই, তিনি বলেন, ‘আমাদের আশা, দেখে যেতে পারব এই কুখ্যাত খুনিদের সাজা কার্যকর হয়েছে। শহীদদের আত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে।

স্বাধীনতার পর এই চতুর্থ কোনো সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ফাঁসীর আদেশ দেওয়া হলো। মতিউর রহমান নিজামী বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের কৃষি ও শিল্পমন্ত্রী ছিলো।

মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ প্রকাশ করে, নেতারা পরস্পরকে মিষ্টি খাইয়ে দেন। এই সময় উপস্হিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাসিব মামুন, উপ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা শেখ রফিক, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এর নেএী শাহানারা রহমান, আনোয়ার হোসেন, ষ্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান মিয়া, সহ সভাপতি শেখ আতিক, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা সাখায়াত বিশ্বাস, আব্দুল হামিদ, দরুদ রনেল মিয়া, যুব লীগ নেতা বাহার খন্দকার সবুজ, নিউ ইংলেন্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদা আরভি, যুক্তরাষ্ট্র ছাএ লীগের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর এইচ মিয়া, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক জাহিদ হাসান, আল আমিন আকন্দ, জসিম উদ্দিন ভূইয়া, সাকিল আহমেদ প্রমূখ।               

 
 
 
 
 
 

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ-লন্ডন থেকে:
রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে পূর্ব লন্ডনের দ্য আট্রিয়ামে শুরু হয় লেবার পার্টির বর্তমান এমপি ও আগামী মে মাসের ২০১৫ সালের ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে বেথনাল গ্রিন ও বো আসনের এমপি পদপ্রার্থী রোশনারা আলীর নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে লেবার দলের ফান্ড রেইজিং গালা ডিনার।বিশাল আট্রিয়াম হল ভর্তি নারী পুরুষের উপস্থিতিতে শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য ও নির্বাচনী তহবিল, আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্যতা, লেবার দলীয় সরকার গঠন, পলিসি ইত্যাদি নিয়ে বেশ মজাদার ও রসাত্মক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেন লেবার দলীয় এমপি, শ্যাডো হোম অফিস টিম শাবানা মাহমুদ এমপি ও কো-আপারেটিভ পার্টি জেনারেল সেক্রেটারি কারিন ক্রিস্টিয়ানসেন।

এর পর শাবানা মাহমুদ এমপি ও কারিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান সাবেক কেবিনেট মিনিস্টার ও লেবার দলীয় এমপি ফ্রাঙ্ক ডবসন এমপি ও কাউন্সিলর রাচেল স্যান্ডার্স।

ফ্রাঙ্ক ডবসন তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সকলকে অনুষ্ঠানে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই ফান্ড রেইজিং গালা ডিনার শুধু ব্রিটিশ লেবার পার্টির নয়, বরং এটা বাংলাদেশেরও তথা ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের।

ফ্রাঙ্ক ডবসন তার দশ মিনিটের বক্তৃতায় রোশনারা আলীর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, রোশনারা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একজন ক্যারিশম্যাটিক এবং জনপ্রিয় লিডার। তিনি সকলকে রোশনারা আলীকে আবারো জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। একই আহ্বান জানান কাউন্সিলর রাচেল স্যান্ডার্সও।

ফ্রাঙ্ক ডবসন এমপির বক্তব্যের পর পরই গালা ডিনারের ফার্স্ট কোর্স স্টার্টার সার্ভ করা হয় প্রত্যেক টেবিলে টেবিলে। এ সময় রোশনারা আলী এমপি, শাবানা মাহমুদ এমপি, জিম ফিটজপ্যাট্রিক এমপি, অ্যালান জনসন এমপি, লেবার দলের মিডিয়া অফিসার সৈয়দ মনসুর উদ্দিন, কাউন্সিলর মতিন, সাবেক কাউন্সিলর আব্দাল আলী তাদেরকে নিয়ে হল রুমের প্রত্যেক টেবিলে টেবিলে গিয়ে অভ্যাগত ও অতিথি এবং আমন্ত্রিতদের সাথে কুশল বিনিময় করেন, সাংবাদিকদের সাথেও কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন এবং ছবিও তুলেন।

ফার্স্ট কোর্স সার্ভের পর অনুষ্ঠানে কি নোট উপস্থাপন করেন সাবেক ওয়ার্কস এন্ড পেনশন সেক্রেটারি ও বর্তমান লেবার দলীয় এমপি অ্যালান জনসন এমপি। তিনি একজন পোস্টম্যান হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করে কেমন করে অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজনীতির লাইম লাইটে আসেন, সুন্দর উপমা আর কৌতুকের মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও রাজনীতিতে একজন রোশনারার নানা সাফল্য ও অপরিহার্যতার কথা উল্লেখ করে তাকে পূণঃনির্বাচনের আবেদন জানান।

এ সময় তিনি আগামীতে লেবার দল ক্ষমতায় এলে এনএইচএস সহ শিক্ষা খাত ও বেনিফিট পলিসিতে কেমন করে সাধারণ জনগণের কল্যাণের জন্য লেবার দল কাজ করবে, তারও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। অ্যালান জনসন এমপি বলেন, বিগত ৫০ বছরের মধ্যে ৩৫ বছর টোরি পার্টি দেশ শাসন করেছে, তার মধ্যে মাত্র ১৫ বছর লেবার দল শাসিত হয়েছে, যাতে জনগণের কল্যাণে অনেক কর্মসূচীর ফল জনগণ পেয়েছিলেন বলে দাবী করেন।

অ্যালান জনসন এমপির বক্তব্যের পর ডিনার সার্ভ করা হয়। কাচ্চি বিরিয়ানি, সাদা রাইস, সব্জি, ডাল, চিকেন, কিং পুড়ন ডিনারের মেন্যুতে সবই ছিলো। সুস্বাদু খাবারের প্রশংসা সকলেই করেছেন। ডিনারের পর পরই অনুষ্ঠিত হয় অকশন। লোকাল চিত্র শিল্পীদের আকা চিত্র, হাউস অব কমন্সের মনোগ্রাম সম্বলিত ঐতিহাসিক টি সেট, গ্লাস সেট, টি পার্টি উইথ শাবানা মাহমুদ এমপি, টি পার্টি উইথ রোশনারা আলী এমপি, অ্যালান জনসন এমপি, দুর্লভ এক পেইন্টিং, হাউস অব কমন্স সিল্ক টাই, ইসলামিক পেইন্টিং, মালয়েশিয়া থেকে আগত ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি পেইন্ট, হাউস অব কমন্স কফলিঙ্ক ইত্যাদি অকশনে ডাকা হয়। আর অকশন ডাকেন লেবার দলীয় মি. পিটার।

অকশন ডাকার পূর্বে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমি একজন ব্ল্যাক প্রেসিডেন্টের কথা বলছি, আমেরিকার জনগণ একজন ব্ল্যাক প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন, আমি বারাক ওবামাকে দেখেছি। কিন্তু ব্রিটেনের জনগণ ব্ল্যাক প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা ও সুযোগ নেই। তবে ব্রিটিশ জনগণ একজন ব্ল্যাক প্রধানমন্ত্রী ডাউনিং ষ্ট্রীটে পাবেন অদূর ভবিষ্যতে, যার সম্ভাবনা এখনি দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে আর তিনি হলেন রোশনারা আলী।

গালা ডিনারের টিকেট ও অকশন থেকে এ সময় ১২,০০০ হাজার পাউন্ড সংগৃহীত হয় বলে অনুষ্ঠানে কারিন ক্রিস্টিয়ানসেন জানান।সন্ধ্যা ৭.৩০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০.০০ টার মধ্যে এই বারো হাজার পাউন্ড সংগ্রহের রেকর্ড গড়লেন রোশনারা আলীর সম্মানে এই গালা ডিনারের পার্টির আয়োজকেরা।

ডিনারের পর পরই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধান আকর্ষণ রোশনারা আলী। তিনি হাসি মুখে মঞ্চে আরোহণ করে সবাইকে সম্বোধন করেন আসসালামু-আলাইকুম বলে এবং উপস্থিত সকলকে গুড ইভনিং বলার পর পরই জিজ্ঞেস করেন আপনারা সকলে ভালা আছেননি ?

রোশনারা আলী স্মিত হেসে তার বক্তব্যে বলেন, আমি আপনাদেরকে একটা জিনিস ক্লিয়ার করতে চাই, আমি শ্যাডো মন্ত্রীর পদ থেকে ইরাক ইস্যুতে পদত্যাগ করেছি, তবে আমি এমপি আছি, এই পদ ছাড়িনি। আপনাদের প্রতিনিধির পদ ছাড়িনি। আবারো আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। কারণ আমি আপনাদের কাজ ও সেবা করতে ভালোবাসি।

রোশনারা বলেন, আপনারা সকলেই মিলে মিশে আমাকে সাপোর্ট করবেন এবং বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম আর টেলিফোনে ক্যাম্পেইন করবেন। কারণ টেলিফোন ক্যাম্পেইন একটা শক্তিশালী মাধ্যম। আত্মীয়, বন্ধু, কলিগ সকলের সাথে আলাপ আলোচনা করবেন।

এ সময় টেবিলে টেবিলে ডিজার্ট সার্ভ করা হয়।

রোশনারা আলী সব শেষে সকলের সাপোর্ট আর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সাথে সিলেটী বাংলা ভাষায় তিনি স্কটিশ ল্যাঙ্গুয়েজের সাথে একটা তুলনামূলক চিত্র কাব্যিক আকারে তুলে ধরে বলেন, আপনারা সকলে মিলে আনার জন্য কাজ করবেন, যাতে আমরা আগামীতে পাশ করতে পারি এবং আগামীর সরকার লেবার দলের সরকার হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন সাবেক মন্ত্রী, হুইপ জিম ফিজটস প্যাট্রিক এমপি।

গালা ডিনারে লন্ডনের স্থানীয় বাংলা সাপ্তাহিকগুলোর বেশ কয়েকজন সম্পাদক, সাংবাদিক, লন্ডন রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলা চ্যানেলগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধিবৃন্দ, জিবিনিউজ, বেতার বাংলা, লন্ডন ক্যাটারার্স ইউনিয়ন, সেলেব্রিটি বাংলা শেফ রইস আলী, আওয়ামীলীগ সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ সাজিদুর রহমান, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় কাউন্সিলর সহ লন্ডনের মেইন মূলধারার লেবার দলীয় রাজনীতিবিদ, সাংসদ, নেতা কর্মী সহ বিভিন্ন বাংলাদেশী সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।               

 
 
 
 
 
 

ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ছাড়া বিএনপির পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন সদ্যপ্রয়াত দলটির সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী।
তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি অনলাইন পত্রিকার নিউজ নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করে এ মন্তব্য করেন।
একই সঙ্গে আযমী প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ দিয়ে লিখেছেন, ‘জামায়াতের সমর্থন ছাড়া তারা ফের ক্ষমতায় যেতে পারবে না- এটা বিএনপি মাথায় রাখলে ভালো করবে।’

অবশ্য শুরুতেই আযমী ওই নিউজের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চেয়েছেন। ডেইলি বিডিনিউজ ডটনেট ‘তারেকের নির্দেশে গোলাম আযমের জানজা বর্জন করল বিএনপি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
পিতা অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুর পর জোটের শরিক বিএনপির নীরবতা ‘অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য’ বলেও ফেসবুকে লিখেছেন আব্দুল্লাহিল আমান আযমী।


তিনি বিএনপি নেতাদের ‘কৃতজ্ঞতাবোধ’ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। লিখেছেন, ‘অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুর পর পুরো বিশ্ব শোক করলেও বিএনপির নীরবতায় পুরো জাতি হতাশ। আমি জানি না কেন!’

আযমী লিখেছেন, ‘আমার এটা বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে, জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপি কখনোই সরকার গঠন করতে পারতো না। দুঃখের বিষয়, এই দলের প্রতিষ্ঠাতা আমির এবং আমৃত্যু আধ্যাত্মিক গুরুর মৃত্যুতে তাদের নীরবতা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য!’

এরপরই তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘জামায়াতের সমর্থন ছাড়া তারা ফের কখনো ক্ষমতায় যেতে পারবে না- এটা মাথায় রাখলে বিএনপি ভালো করবে। এটা আমার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ। তারা কতো অকৃতজ্ঞ হতে পারে!’

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৩ অক্টোবর রাতে কারাবন্দি গোলাম আযম ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।           

 
 
 
 
 
 

নিউজডেস্ক: যে কোনো সময় নির্বাচন দেয়ার ক্ষমতা সরকার রাখে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বিকালে আমিরাত সফর শেষে গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে একথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, একটি নির্বাচন যখন হয়েছে; আরেকটি নির্বাচনও হবে। আর সেটা নির্দিষ্ট সময়েই হবে- কে কি বুঝল তাতে কিছু আসে-যায় না।

প্রধানমন্ত্রীর জীবনের নিরাপত্তা বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, জীবন যিনি দেন- তিনিই জীবন নেন। আমার জীবন কখন যাবে, সেটা আল্লাহ জানেন। আমি মৃত্যু নিয়ে কখনই উদ্বিগ্ন থাকি না। জন্মিলে মরতে হবে।

তিনি বলেন, আমাকে তো বহুবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছ। আমার চোখের সামনে গুলি হতে বহুবার দেখিছি। বহুবার বোমাবাজি দেখেছি। চট্টগ্রামে ট্রাকে গুলি করা হয়েছে। একবার আমার মাথার ওপর দিয়ে গুলি চলে গেছে। একবার ইশ্বরদী যাওয়ার পথে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ৩ বার গুলি করা হয়েছে। কাজেই আমার নিরাপত্তা নিয়ে আমি কখনই উদ্বিগ্ন থাকি না।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দন্ড নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্গনের বিচার হচ্ছে। আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে প্রশ্ন করি- যখন গাজায় নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে, তখন কি মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি? সে সময়তো আপনাদের উদ্বেগ দেখিনি। উদ্বেগ হয় তখন যখন মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিচার হয়।

শেখ হাসিনা দৃঢ় কণ্ঠ বলেন, আমার দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। আমার দেশের আইন অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্গনকারীদের বিচার হবে।

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের প্রশাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে আমিরাত সফর করেন।
           

 
 
 
 
 
 

দুবাই : সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশিসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহত বাংলাদেশির নাম রহমত আলী শামস।
মঙ্গলবার একটি রেঞ্জ রোভার প্রাইভেটকার একটি পার্কিং করা ট্রাককে আকস্মিক ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কারটিতে থাকা চার যাত্রীই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক বাংলাদেশি, একজন ভারতীয় ও দুইজন আমিরাতের নাগরিক ছিলেন।
শারজা ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের প্রধান কর্নেল শাওয়াফ আবদেল রহমান জানান, দ্রুত গতিতে চালিয়ে আসা কারটি পার্ক করে রাখা একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সরাসরি খালি ট্রাকটিকে আঘাত করলে কারের সকল যাত্রীই ঘটনাস্থলে নিহত হন।

এ ঘটনায় কারটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
  

 
 
 
 
 
 

ঢাকা, ২৯ অক্টোবর :
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসির আদেশের খবরটি বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম খুবই গুরুত্বের সঙ্গে পরিবেশন করেছে। তার এ মৃত্যুদন্ডের খবরটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিভিন্নভাবে পরিবেশন করতে দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি নিয়ে শিরোনাম করেছে ‘বাংলাদেশ ইসলামিস্ট লিডার মতিয়ুর রহমান নিজামী সেন্টেন্সড টু ডেথ’। খবরটিতে বলা হয়, মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আনা ষোলটি অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত জানিয়েছে। এর মধ্যে চারটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদন্ড এবং অপর চারটি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ।
এই রায়ের পরবর্তীতে নিজামীর আইনজীবী তাজুল ইসলামের মন্তব্যকেও গুরুত্ব দিয়েছে সংবাদ মাধ্যমটি। বিবিসি জানিয়েছেন, সরকার পক্ষের আইনজীবীরা এ রায়কে স্বাগত জানালেও তাজুল ইসলাম বলেছেন- এ রায়ের মধ্য দিয়ে নায্য বিচার পাননি তারা। তাই এই রায়ের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত আপিল করা হবে।
এদিকে রায়ের প্রতিবাদে জামায়াত ইসলামীর আগামী বৃহস্পতি, রবি ও সোম তিনদিনের হরতালের ঘোষণার কথাও উল্লেখ করেছে বিবিসি।
দা গার্ডিয়ান পত্রিকা জানায়, বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধ আদালত ৭১ বছরের জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাতের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি এসব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আদালতে নিজামিকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এ রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে ঘোষণা করেছেন প্রসিকিউটর হায়দার আলী।
আল জাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল,‘জামাত চিফ সেন্টেন্সড টু ডেথ ইন বাংলাদেশ’। এতে বলা হয়, বুধবার ঢাকার  তিন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত প্যানেলের প্রধান এম এনায়েতুর রহমান মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন। এ সময় কাঠগড়ায় দন্ডায়মান ছিলেন নিজামি। সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, খুন ও ধর্ষণসহ ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছিল।

তবে আদালতের এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের হরতালের ডাক দিয়ে জামায়াতে ইসলামী। সহিংসতা এড়াতে রায় ঘোষণার সময় আদালতের বাইরে ব্যাপক সেনা, পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

জামায়াত নেতার মৃত্যুদন্ডের খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করেছে পাকিস্তানের শীর্ষ দৈনিক ডন। ‘বাংলাদেশ ওয়ার ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল সেন্টেনসেস জেআই চিফ টু ডেথ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় দলের প্রধান নিজামীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হযেছে। রায় উপলক্ষে গোটা বংলাদেশে কড়া নিরাপত্তা আরোপ করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছিল অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ।

উল্লেখ্য, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসির আদেশ দেয়  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।  ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ৩  সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

নিজামীর বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৮টি প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে ফাঁসির আদেশ এবং ১, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।               

 
 
 
 
যোগাযোগ করুন..
01712 247 900

dainiksylhet@gmail.com